শুরু হয়েছে বর্ষা মৌসুম। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে। এ সময়টাতে বিভিন্ন জায়গায় জমে স্বচ্ছ পানি। এছাড়া মৌসুমটিতে বিশেষ করে ভ্যাপসা গরমের সাথে ঝিরি ঝিরি কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। এটি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
চট্টগ্রামে গতকাল থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি বিভিন্ন বাসা বাড়ির ছাদে, ফুলের টবে, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ার–সহ বিভিন্ন জায়গায় জমছে। জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের উৎস।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চলতি জুন থেকে আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। গত মে মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ জন। চলতি মাসের অর্ধেক না যেতেই সেটি পৌঁছেছে ৪৬ জনে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৪ জন পুরুষ, তিনজন শিশু এবং একজন নারী। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১ জন এবং সিএমএইচে ভর্তি রয়েছে ২ জন। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২২২ জন। এরমধ্যে নগরীতে ১৩৫ জন এবং উপজেলায় ৮৭ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার বংশবিস্তার থামানো গেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এমনিতেই কমে যাবে। বিশেষ করে আমাদের চারপাশে যেসব জায়গায় এডিস মশা জন্মায় সেসব জায়গায় যাতে এডিস মশা জন্মাতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিষ্কার ও বদ্ধ পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। তাই বসতবাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, ফুলের টব, ছাদবাগান ও ফ্রিজের নিচের ট্রেতে তিন দিনের বেশি পানি যাতে জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, ছাদ আঙিনা নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার রাখতে হবে। এটি সবার দায়িত্ব।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে না। অনেক রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষার (এনএসওয়ান) রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। এটির আসলে কোনো দরকার নেই। ডেঙ্গুর প্ল্যাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তখন কেবল রোগীর শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। তখন জরুরি চিকিৎসা কিংবা নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে রক্তের প্ল্যাটিলেট কমা শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পর পর। তখন শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্ল্যাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আসলে প্ল্যাটিলেট যখন বাড়া শুরু হয় তখন দ্রুতই বাড়ে। কাজেই ডেঙ্গু জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম আজাদীকে বলেন, মে মাসের তুলনায় ডেঙ্গু রোগী কিছুটা বাড়ছে। তবে সেটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ২–৩ জন করে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে যেহেতু বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, তাই নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তিনদিনের বেশি যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে আমাদের যেহেতু ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা আছে, তাই ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করা আমাদের জন্য সহজ বলা যায়। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এছাড়া মশক নিধনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে মারা যায় ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন।












