৫০ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সদর দপ্তরের নিজস্ব ভবনটিতে উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। নগরীর জয় পাহাড়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে রং করা থেকে পাইপ ফিটিং পর্যন্ত প্রায় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দিনকয়েকের মধ্যে ভবনটি উদ্বোধন করার কথা। কিন্তু গতকাল সরেজমিনে গিয়ে ভবনটিতে অনেকগুলো ফাটল দেখা গেছে। নির্মাণ শ্রমিকেরা বলছেন, এগুলো পুনরায় মেরামত করে রং করা হবে।
সূত্রে জানা যায়, দেশের জ্বালানি তেল আমদানি এবং বিপণনের একমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিপিসি। স্বাধীনতার পর সংস্থাটির সদর দপ্তর ছিল ঢাকায়। এতে নানা ধরনের সমস্যা হতো। কারণ সব জ্বালানি তেল আমদানি হয় চট্টগ্রামে। সংরক্ষণ এবং সরবরাহ হয় এখান থেকে। একপর্যায়ে ১৯৯০ সালে সংস্থাটির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে আনা হয়। তখন থেকে বিপিসি চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শুরুতে নগরীর আগ্রাবাদ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনের ভবনে জায়গা ভাড়া নেয় বিপিসি। সেখানে ২০০০ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর ২০০১ সালে বিপিসির সদর দপ্তর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ভবনে স্থানান্তর করা হয়। বন্দর ভবনের বিপরীত পাশে সল্টগোলা রোডে বিএসসির নিজস্ব ভবনে ফ্লোর ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাতে গিয়ে প্রতি মাসে বিপিসির ৩৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়।
চট্টগ্রামে বিপিসির মালিকানাধীন বেশ জায়গা থাকলেও ভবন নির্মাণ হয়নি। বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বাকলিয়া নোমান কলেজের পাশে এক একরের বেশি জমিতে বিপিসি সদর দপ্তর নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছিল। প্রায় ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা। কিন্তু হয়নি।
নগরীর জামালখান সংলগ্ন জয় পাহাড়ে সংস্থাটির বিপুল পরিমাণ জায়গা রয়েছে। রয়েছে সংস্থার আবাসিক এলাকা। এখানে সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূলতায় এখানে ভবন নির্মাণ যথাসময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ভাড়া থাকার পর গত বছর জয় পাহাড়ে বিপিসির সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজটি পায় ইউনাইটেড কর্পোরেশন নামের একটি কোম্পানি। ভবনটির নির্মাণ কাজের শুরুতে বিপিসির বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠে। সবকিছু সামলে ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বিপিসি নিজস্ব অর্থায়নে স্টিল স্ট্রাকচারের পাঁচতলা ভবনটি নির্মাণ করে। এতে ব্যয় করা হয় ৫০ কোটির বেশি টাকা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভবনটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এই ভবন থেকে পরিচালিত হবে বিপিসির সদর দপ্তরের যাবতীয় কার্যক্রম। সেই প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সংস্থাটির পক্ষ থেকে শুরু করা হয়েছে।
কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ভবনটির দেয়ালে অনেক ফাটল দেখা দিয়েছে। বিপুল ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবনে ফাটল দেখা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। বিপিসির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভবনটির নির্মাণ যাতে ঠিকভাবে হয় সেজন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবকিছু তদারকিও করা হয়েছে। তবে এত আয়োজনের পর যে ভবনটি নির্মিত হলো উদ্বোধনের আগে সেখানে ফাটল দেখা দেবে কেন?
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির দেয়ালে অনেকগুলো ফাটল। এসব ফাটল কতটুকু গভীর কিংবা ভবনটির জন্য হুমকি কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নির্মাণ শ্রমিকেরা বলেন, ফাটলগুলোতে পুনরায় প্লাস্টার করে দিলে ঠিক হয়ে যাবে। এগুলো প্লাস্টার করে আবার ফাইন্যাল রং করা হবে বলে গতকাল বিকালে শ্রমিকেরা আজাদীকে জানান। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কাউকে ওখানে পাওয়া যায়নি।
ভবনটির ফাটল নিয়ে কথা বলতে বিপিসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিপিসি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেল আমদানি করে। বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল কোম্পানি, যমুনা অয়েল কোম্পানি এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে বাজারজাত করে। বিপিসির আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। বিপিসি সদর দপ্তরে ১৮০ জনের মতো কর্মকর্তা–কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তারা এই ভবনটিতে অফিস করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।











