৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

কাটবে দীর্ঘদিনের ইঞ্জিন সংকট প্রকল্প ব্যয় ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা

শুকলাল দাশ | বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:১০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ইঞ্জিন সংকট কাটাতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল–ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একনেকে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুল ইসলাম, পিইঞ্জ জানান, ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ক্রয়ের একটি প্রকল্প বুধবার একনেকে অনুমোদন হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন থেকে ইঞ্জিনের সংকট চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ক্রয় করা হলে এই সমস্যা নিরসন হবে।

চট্টগ্রাম–দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজ রেলপথে রূপান্তর প্রকল্পের অধীনে এই ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল–ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনা হবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) দেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রতিটি মিটারগেজ ইঞ্জিন ক্রয়ে দাম পড়বে ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০টি লোকোমোটিভ কিনতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পূর্বাঞ্চলে মিটারগেজ ইঞ্জিন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইঞ্জিন সংকটের কারণে নিয়মিত ট্রেন চালাতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে রেলওয়েকে। কোনো কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন ঠিকমতো ছাড়তে পারছে না, আবার সময়মতো গন্তব্যেও পৌঁছাতে পারছে না। যাত্রীদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাড়তি ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মালবাহী ট্রেন চলাচলও প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে পণ্য পরিবহন টার্মিনাল। এই ইয়ার্ড থেকে আগে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেনে ঢাকা কমলাপুর আইসিডিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কনটেইনার, তেলবাহী ট্রেন এবং চাল–গমসহ পণ্য পরিবহন করা হতো। ইঞ্জিন সংকটের কারণে বর্তমানে একটির বেশি ট্রেন চলাচল করছে না বলে জানিয়েছেন ইয়ার্ড মাস্টার।

৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ক্রয়ের ফলে ঢাকা–চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম–কঙবাজার, ঢাকা–কঙবাজার ও চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে নতুন ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক ও পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে ট্রেনে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বাড়বে, যাত্রার সময় কমবে, পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে এবং পরিবহন ব্যয় কমবে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুততর, সাশ্রয়ী ও বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হবে। এতে সড়ক পরিবহনের ওপর বিদ্যমান চাপও কমবে বলে মনে করছেন তারা।

রেলওয়ের পাহাড়তলী ডিজেল শপের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছ থেকে জানা গেছে, বর্তমানে রেলের বহরে ১৬৭টি মিটারগেজ ইঞ্জিন রয়েছে।

রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে ১১৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের বয়স ৪০ বছরের বেশি। এসব ইঞ্জিন এখনো ট্রেন পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকৌশলীরা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ এসব লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে এগুলোর নির্ভরযোগ্যতাও কম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচুয়েটে অচলাবস্থার পেছনে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ রয়েছে
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম সওজ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান