চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর রহমতগঞ্জে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের কার্যালয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১–এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানের ব্যাপারে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর টোল প্লাজায় ওজন স্কেল সংলগ্ন একটি সড়ক সংস্কারে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পের কাজ একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে দেখিয়ে মাত্র তিন দিনে শেষ করা এবং ২৫ লাখ ২২ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এই অভিযোগে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয়ে অভিযান শেষে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন এসব তথ্য জানান।
সওজের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলামের কার্যালয়ে অভিযান চালান দুদক কর্মকর্তারা। অভিযানে তারা বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সওজের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১–এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ‘কানেক্টিং রোডের টোল প্লাজা সংলগ্ন একটি সংযোগ সড়কের মেরামত (মেইনটেন্যান্স) কাজের বিষয়ে কমিশনের অনুমতি নিয়ে তারা অভিযান চালান।
তিনি বলেন, অভিযোগ ছিল, ‘জিরো ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওই মেরামত কাজটি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৮ জুন ২০২৫ সালে কাজের কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পায়। কাজটি সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল ১০ দিন। তবে কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যে, ২১ জুন কাজটি সম্পন্ন করা হয় এবং পরদিন ২২ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে বিল পরিশোধ করা হয়।
সওজের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় এটি ওয়েস্কেলের কোনো প্রকল্প নয়। ওয়েস্কেলের পাশে সড়কের একটি ছোট অংশ জরুরি ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ছিল। এ কাজ নিয়ে হয়তো কেউ অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম আজকে (গতকাল) সওজে কার্যালয়ে এসেছে। তাদের প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এটি একটি মেরামতকাজ, যা নথিপত্র অনুযায়ী যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মাঠপর্যায়েও কাজটি যথাযথভাবে করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা সরেজমিনে সেটিই যাচাই করতে গেছেন। পরিদর্শন শেষে তারা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবেন।











