নগরে ১৪৫ সড়ক-ড্রেনে পিডিবির ১ হাজার ৬ পোল

জলাবদ্ধতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি সরাতে চসিকের চিঠি

মোরশেদ তালুকদার | বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

নগরের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে কাঠগড় মোড়। ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরত্বের এ সড়কে রয়েছে পিডিবির ৫০টি বৈদ্যুতিক পোল। এসব পোলের কোনোটি সড়কে আবার কোনোটি সড়কের সাথে যুক্ত পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের (সসার ড্রেন) ভেতর স্থাপন করা হয়েছে। এতে তৈরি হয়েছে জোড়া সংকট। একদিকে পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়ে সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে এসব পোলে গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শুধু সড়কটি নয়। এভাবে নগরের বিভিন্ন এলাকার ১৪৫টি সড়ক এবং সড়কের সাথে যুক্ত সসার ড্রেন–এ রয়েছে পিডিবি’র ১ হাজার ৬টি বৈদ্যুতিক পোল। চসিকের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব বৈদ্যুতিক পোলের তালিকা প্রস্তুত করে। কমিটি সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করে। সেখানে পোল’গুলোর বিষয়ে চারটি সুপারিশও করে। এদিকে পোলগুলো সরিয়ে নিতে গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম–এর প্রধান প্রকৌশলীকে একটি চিঠিও দেয়া হয় চসিক থেকে। চিঠিতে ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার সড়কে স্থাপিত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেলের খুঁটি সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন আজাদীকে বলেন, সরেজমিন ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী খুঁটিগুলোর তালিকা প্রস্তুত ও প্রতিবন্ধতা নিরসনে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিলাম। কমিটি সম্প্রতি প্রতিবেদন দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিতে আমরা পিডিবিতে লিখেছি।

কোথায় কত পোল : চসিকের প্রকৌশল বিভাগের প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, রাস্তার মাথা থেকে কালুরঘাট মেইন সড়কের দুইপাশে রয়েছে সর্বোচ্চ ৭০টি পোল। এছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এ এল খান সড়ক, ৪ নম্বর ওয়াডের্র এফআইডিসি রোডে ২৫টি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ান মহসিন সড়কে ২৫টি পোল রয়েছে।

তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চসিকের ৮ নম্বর জোনের ৩৭ নং ওয়ার্ডের ১৫টি সড়কে ৬০টি, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি সড়কে ১০২টি, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি সড়কে ৯৬টি এবং ৪০নং ওয়ার্ডের ৭টি সড়কের রয়েছে ৮৯টি বৈদ্যুতিক পোল। এ ছাড়া অঞ্চল–১ এর আওতাধীন ১, ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯টি সড়কে ১১৬টি এবং ২ নম্বর অঞ্চলের ৪, ৫, ৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে ৪৫৬ টি পোল। সবমিলিয়ে ১৪৫টি সড়ক এবং সড়কের সাথে যুক্ত সসার ড্রেন–এ রয়েছে পিডিবি’র ১ হাজার ৬টি বৈদ্যুতিক পোল।

এ বিষয়ে পোল সনাক্তে গঠিত চসিকের কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘পিডিবি কর্তৃক কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি সসার ড্রেন– এ স্থাপন করা হয়েছে। সসার ড্রেন মূলত রাস্তার প্রান্ত এবং ফুটপাথের মধ্যাংশের নিচু জায়গা, যা বৃষ্টির পানি নির্বিঘ্নে প্রবাহের পথ হিসেবে নকশা করা হয়ে থাকে। সসার ড্রেন এ বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন পানি প্রবাহ ব্যাহত হবে অন্য দিকে গাড়ির চাকার দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে।

পোল সরাতে চার সুপারিশ : প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, বৃষ্টির পানি প্রবাহ বজায় রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে সসার ড্রেন–এ বৈদ্যুতিক খুঁটি বা সোলার প্যানেলের খুঁটি স্থাপন পরিহার করতে হবে। চলমান বৈদ্যুতিক খুঁটি বা সোলার প্যানেলের খুঁটি ফুটপাতের এজিং বা ফুটপাতের সুবিধাজনকস্থানে স্থাপন করতে হবে যেখানে পথচারী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না ঘটে।

এছাড়া ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং পিডিবি কর্তৃক সসার ড্রেনে এ যে সকল বৈদ্যুতিক খুঁটি বা সোলার প্যানেলের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে তা স্থানান্তর করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে পিডিবি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর সাথে সমন্বয় করে সুবিধাজনক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তর করতে হবে। প্রয়োজনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়নাধীন বৈদ্যুতিক খুঁটির ফাউন্ডেশন ড্রইং ডিজাইন সিম্পল করে কাজ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

চসিকের পোল নিয়ে যা বলা হয় : গত ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদীতে ‘এলইডি বাতির পোল ব্লক বসছে রাস্তার সাব–ড্রেনে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মূলত ওইদিনই নগরের বিভিন্ন সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি ও সোলার প্যানেলের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা নিরসনে উদ্যোগ নেয় চসিক এবং ওইদিন একটি কমিটি গঠন করা হয়।

চসিকের পোল প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় চলমান প্রকল্পের কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি সসার ড্রেন এ স্থাপন করা হয়েছে। নথিতে সংরক্ষিত নকশা এবং ডিজাইন পর্যালোচনা করে দেখা যায় রাস্তা বা ফুটপাথ এর কোন এলাইনমেন্টে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করা হবে তারও কোন সঠিক দিক নির্দেশনা নেই। সে কারণেই পূর্বের ধারাবাহিকতায় কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি ঠিকাদার কর্তৃক সসার ড্রেন–এ স্থাপন করা হয়।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, লোকাল গর্ভমেন্ট কোভিড–১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) এর আওতায় ১২ কোটি ১৪ লাখ টাকায় নগরের ১১ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৪৭৮ পোলে সমসংখ্যক এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নিচে, কাজীর দেউড়ি থেকে জামালখান, জামালখান থেকে চেরাগী পাহাড়, মোমিন রোড, ডিসি হিল হয়ে বোস ব্রাদার্স পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় এসব এলইডি বাতি বসানো হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি সড়কে অন্য প্রকল্পের আওতায়ও সড়ক বাতি স্থাপন করা হচ্ছে।

চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান আজাদীকে বলেন, যেখানে সমস্যা ছিল সেগুলা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম সওজ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান
পরবর্তী নিবন্ধকাঁদলেন, কাঁদালেন মেসি