চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রেক্ষিতে গত ১৬ দিন ধরে ক্যাম্পাসে সৃষ্ট অচলাবস্থার পেছনে শিক্ষকদের একটি অংশ ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ছাত্রনেতারা। তাদের দাবি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো সামনে আসার আশঙ্কায় একটি মহল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সরকার যোগ্য লোককেই ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে চুয়েটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রিয়াসাত হাসান সুমন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ইলিয়াস হোসেন, সাবেক জিএস শফিকুল ইসলাম খান ও সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাসিম হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। স্নাতক পর্যায়ে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপ–উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাদের দাবি, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার যোগ্যতা, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম দায়িত্ব গ্রহণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতের হিসাব–নিকাশ, অডিট ও অনিয়ম পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি মহল নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের আরও অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক ছাত্রগোষ্ঠী সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংকট নিরসনে চার দফা আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচনায় না পড়ে দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষকদের আন্দোলন থেকে সরে এসে নতুন উপাচার্যের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে বসতে বলা হয়। একই সঙ্গে সরকারকে ধৈর্য ও আইনি বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
নতুন উপাচার্যকে দ্রুত সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানান সাবেক ছাত্রনেতারা।












