শিক্ষার্থীদের পথ দখল করে ব্যবসা নয় : মেয়র

ফুটপাতের স্থাপনা না সরালে উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি

| বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

নগরীর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়সংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথ দখল করে কোনো ব্যবসা বা অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। ফুটপাত দখল করে স্থাপিত স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

গতকাল বুধবার নগরীর ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের রামপুর সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং বিদ্যালয়ের ভবন ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি চাই না ফুটপাতে কেউ ব্যবসা করুক। ফুটপাতে ভ্যানগাড়ি বসিয়ে বিভিন্ন কিছু বিক্রি করুক। অনেক জায়গায় ফুটপাতের ওপর স্থায়ী স্থাপনাও করা হয়েছে। এগুলো সরিয়ে নিতে হবে। আমি অভিযান চালাব। আমার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে স্কুলে আসতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শুধু সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়; শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিদ্যালয়ের আশপাশে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও ইভটিজারদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, মেয়র বলেন, আমার বাচ্চা মেয়েদের কেউ ইভটিজিং করবে–এটা মেনে নেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাং ও ইভটিজারদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র বলেন, নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। কয়েক দিন জ্বর থাকার পরও অবহেলা না করে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে। শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা দিলে, প্রেসার কমে গেলে, রক্তবমি হলে কিংবা পায়খানা ও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চসিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত বিটিআই লার্ভিসাইড ব্যবহার করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, সকালের নাস্তা না খেয়ে কোনো শিক্ষার্থী যেন বিদ্যালয়ে না আসে। ডিম, কলা ও দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সকালের নাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, মহানগর পিপি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মহিলা অভিভাবক সদস্য জেসমিন খানম, অভিভাবক সদস্য দিদারুল আলম চৌধুরী ও রাশেদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন রামপুর সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আছেফুর রহমান ফারুকী।

অনুষ্ঠান শেষে মেয়র বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং বিদ্যালয়ের ভবন ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. তিমিরের বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলা
পরবর্তী নিবন্ধচুয়েটে অচলাবস্থার পেছনে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ রয়েছে