১০০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ, ১২৫ প্রতিষ্ঠানের তথ্য তলব

তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা

| শুক্রবার , ৬ নভেম্বর, ২০২৬ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ

তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে প্রায় ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর বাংলানিউজের।

এনবিআর সূত্র জানায়, এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে সংস্থাটি।

তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন সালমান এফ রহমান, নসরুল হামিদ, আবদুস সালাম মুর্শেদী, টিপু মুনশি, শাহরিয়ার আলম ও তাজুল ইসলাম।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে টুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান, ওয়েল গ্রুপের আবদুচ ছালাম, নিপা গ্রুপের খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচির নাম রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও তালিকায় আছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক হিসাব জব্দ করার তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের জামাই আলিফ মোল্লার নামও রয়েছে। আর মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়াও ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের ওই কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের বিবরণ চাওয়া হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসব ব্যক্তির কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ পলাতক। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এনবিআরের তদন্ত শেষ হয়নি। এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এটিকে চলমান প্রক্রিয়া বলছেন তারা। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তারা। বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্য একটি সূত্রও জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আসা নির্দেশনার ভিত্তিতে তারাও কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি
পরবর্তী নিবন্ধকর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে সাভার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে