নগরীর খুলশীর আমবাগান এলাকা থেকে এক হিজড়ার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মোহাম্মদ মহসীন প্রকাশ মৌসুমী (৫২)। হিজড়াদের একটি অংশের গুরু মা হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। গতকাল সকাল ১০ টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল আমবাগান শহীদ মিনার কলোনিতে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। এর আগে বাহির থেকে বাসার দরজা বন্ধ দেখে মৌসুমীর শিষ্যদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তারা দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা মৌসুমীকে উপুড় হয়ে শোয়া দেখতে পান।
শিষ্যরা জানিয়েছেন, উপুড় হয়ে পড়ে ছিল মৌসুমীর মরদেহ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চোখেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায় কালো দাগ দেখা গেছে। এমনকি মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল বলেও শিষ্যরা জানান। শিষ্যরা বলেন, কিভাবে মৌসুমীর মৃত্যু হয়েছে, কারা ঘটনায় জড়িত– সবকিছু তদন্ত করলে বের হয়ে যাবে। আমরা ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ২ টার দিকেও মৌসুমীর সাথে তাদের কথা হয়েছে। নানা বিষয়ে গল্প করেছেন। পরে তিনি নিজের ঘরে চলে যান। ওই ঘরে তিনি একাই থাকতেন। পুলিশ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠালে সেখানে জড়ো হন হিজড়াদের অনেক অনুসারী। তারা জানিয়েছেন, মৌসুমী খুবই ভালো ছিলেন। কারো সাথে তার কোনো রকম বিরোধ ছিল না। কেউ সাহায্য চাইলে সাথে সাথে তিনি টাকা–পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন। সেই তার সাথে কেন এমন হলো বুঝতে পারছেন না বলেও তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে, একজন ব্যক্তি মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করছেন। তারা একে অপরের পূর্ব পরিচিত বলে মনে হয়েছে। পরে ওই ব্যক্তি চুপিসারে বের হয়ে দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, মৌসুমীর গলায় একটি চেইন ছিল। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। চেইনের জায়গায় কালো একটি দাগ পাওয়া গেছে। চেইন আত্মসাৎ করতে গিয়ে এ ঘটনা কি না, নাকি অন্য কিছু – সবকিছু আমরা তদন্ত করে দেখছি। সিসিটিভি ফুটেজে যাকে দেখা গেছে তাকেও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তার নাম জানা যায়নি এখনো। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলছি। লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে ওসি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনটি পাওয়া গেলে কিভাবে মৌসুমীর মৃত্যু হয়েছে–সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। হিজড়াদের গুরু মা মৌসুমীর এমন মৃত্যুর ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওসি আব্দুর রহিম।












