চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। শুধু দেশ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করলেই হবে না, মানুষের মনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওস্থ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর–গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে ‘মিনি বাংলাদেশ’। জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, কান্তজীর মন্দির, কার্জন হল ও আহসান মঞ্জিলসহ বিভিন্ন স্থাপনার প্রতিরূপ রয়েছে এখানে। যে মানুষ বাংলাদেশকে জানতে চায়, দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জানতে চায়, সে একবার এখানে এলে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পর্কে ধারণা পাবে– বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, কালুরঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও আগ্রহ জড়িয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটিকে নিরাপদ ও মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জেলা প্রশাসন।
সাম্প্রতিক সময়ে কমপ্লেক্সটর বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কার ও কমপ্লেক্সটি পুনরায় সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে তার আগেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা পরিচ্ছন্ন করে দর্শনার্থীদের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা চাই মানুষ এখানে এসে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাক, দেশের ইতিহাস–ঐতিহ্য সম্পর্কে জানুক।
একই সঙ্গে আমাদের আগামী প্রজন্ম সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠুক, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, পরিচ্ছন্নতাকে সাময়িক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতেই চট্টগ্রামজুড়ে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রামকে নান্দনিকভাবে সাজানোর আরও কয়েকটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকেও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।












