স্থিতিশীলতা নষ্ট করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

চবিতে কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন । রংধনু জাতি গঠনের প্রতিফলন হাটহাজারী : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

চবি প্রতিনিধি | শনিবার , ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:০১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সহনশীল, সংবেদনশীল, মানবিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। সেই সাথে দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের প্রথম পরিচয় বাংলাদেশী এরপর ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সংস্কৃতি; বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির (সরস্বতী জ্ঞান মন্দির) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, চবি উপউপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন এবং মন্দিরের দাতা ও অদুলঅনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের আলাদা বৈচিত্র্য রয়েছে। কারণ এটি সাধারণ কোনো মন্দির উদ্বোধন নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন। এ বিশ্ববিদ্যালয় বৈচিত্র্যময় একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যেখানে বৈচিত্র্য ও ঐক্য নেই, সেখানে উন্নতি হয় না।

যারা দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়া তিনি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এবং কৃষি ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে গৃহীত নানা সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম জাতীয়তাবাদের যে দর্শন দিয়েছেন, যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ বাংলাদেশী পরিচয়ে মিলেমিশে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংধনু জাতি গঠনের যে ধারণা তার অন্যতম প্রতিফলন হাটহাজারী। এ অঞ্চল সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির অনন্য উদাহরণ, যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, এ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফাও প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছর পর প্রত্যক্ষভাবে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংধনু জাতি গঠনের ধারণা গ্রহণ করেই জনগণ বিপুল ভোটে জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছে। আমরা কোনো ধর্ম বা বর্ণের মানুষকে আলাদাভাবে দেখতে রাজি নই। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিগত ১৭ বছরের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে উত্তরণ করে আজ আমরা যে অবস্থানে এসেছি, তা ধরে রাখতে হলে হিংসাবিদ্বেষ পরিহার করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন জীবনমানের উন্নয়ন চায় এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে এবং এখানে বহু খ্যাতিমান শিক্ষক রয়েছেন। তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠায় দাতা অদুল কান্তি চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, বিএনপি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে, যেখানে বিভিন্ন চিন্তার সম্মিলন ঘটছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবগত আছেন। তিনি বলেন, দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকান বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দিন এবং এ মন্দির শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ঐক্য ও সমপ্রীতির প্রতীক। তিনি মন্দিরটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, বিদ্যার চেয়ে পবিত্র আর কিছু নেই এবং জ্ঞানই মানুষকে অন্ধকার থেকে মুক্তি দেয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এ দেশ সবার এবং দেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মন্দিরের দাতা অদুল কান্তি চৌধুরী বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে সহায়তা করতে পেরে তিনি গর্বিত এবং সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে এ দেশে বসবাস করবো এবং এ মন্দিরের সাফল্য কামনা করছি। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন মন্দির উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী ও সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়। সঞ্চালনা করেন প্রফেসর ড. সজীব কুমার ঘোষ। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রভোস্ট, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষকশিক্ষার্থী, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, ভক্তবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচুয়েটে এখনো ২৩ আসন খালি, পঞ্চম পর্যায়ের ভর্তি ৩ মে
পরবর্তী নিবন্ধজব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর আজ