রাউজানের পাহাড়, কৃষি জমি ও টিলাভূমি থেকে মাটি কেটে সরবরাহ ব্যবসা সাময়িক বন্ধ আছে। এখন মাটি ব্যবসায়ীরা মাটির কাটার উৎস করে নিয়েছে বিভিন্নস্থানে থাকা খালের মাটি ও বালু। তাদের নজর এখন সর্তা খালে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, মাটি ও বালু সরবরাহকারীরা এখন মাটি ও বালুর বড় উৎস করে নিয়েছে সর্তা খালকে। এই খালের বিভিন্ন পয়েন্ট এখন স্যালো পাম্প বসিয়ে বালু ও খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে তারা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে নির্বিঘ্নে।
দেখা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত সর্তা খালের খচ্ছাঘাট এলাকায় একাধিক গ্রুপ খালের ভিতর স্যালো পাম্প বসিয়ে বালু উঠাচ্ছে। এসব বালু ছোট ট্রাক আর জিপ গাড়িতে বিভিন্নস্থানে সরবরাহ দিচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেছেন, এই খচ্ছারঘাটে রাউজান–ফটিকছড়ির সংযোগে একটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। দেখা গেছে, খচ্ছারঘাটে যেখানে সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে সেটির আশেপাশের এলাকা থেকে স্যালো পাম্প বসিয়ে রাতদিন বালু উঠানো হচ্ছে। এ কারণে খালের ভাঙন প্রতিদিন বড় হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেছেন, বালু উঠানোর এই ধারা অব্যাহত থাকলে খালের ভাঙনের পাশাপাশি সেতুনির্মাণ কাজ ব্যাহত হবে। ডাবুয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের সীমানায় থাকা আমিরহাটের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সর্তাখালের ভিতর থেকে একটি সিন্ডিকেট মাটি কেটে বিভিন্নস্থানে সরবরাহ দিচ্ছে। বেড়িবাঁধ ঘেঁষে খালের ভিতর থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে শক্তিশালী খননযন্ত্র ব্যবহার করে। কাটা মাটি পরিবহন করা হচ্ছে ড্রাম ট্রাকে। এলাকার জনসাধারণের কাছ থেকে জানা যায়, এই কাজে জড়িতরা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী পরিচয়ধারী। কয়েকজন সিন্ডিকেট করে মাটি ও বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হলদিয়া ইউনিয়নে বালু ও মাটি কাটা নিয়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন সময় মাটি ও বালুর ব্যবসার ভাগাভাগি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে পক্ষ বিপক্ষে ঝামেলা হতেও দেখা যায়।
এলাকার জনসাধারণ বলেছেন, বর্ষা মৌসুমে এই সর্তাখালে প্রচণ্ড স্রোত হয়ে পাহাড়ি পানি নেমে আসে। স্রোতের তীব্রতায় বিভিন্নস্থানে খালের পাড় ভেঙে দুই কূল ভাসিয়ে এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তীর ভাঙা প্রচণ্ড স্রোতের পানিতে ধসে যায় লোকালয়ের রাস্তাঘাট।
স্থানীয়দের আশংকা এখন খালের ভিতর থেকে যেভাবে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে, সেটি দেখে মনে হচ্ছে পানির স্রোত শুরু হলে খালের পাড় ভেঙে পানির প্রবাহ গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।
খালের ভিতর থেকে মাটি কাটার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা হলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মুসলেম উদ্দিন বলেন, কিছু বিএনপি কর্মী খালের ভিতর জেগে উঠা চর থেকে কিছু মাটির কাটার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে মাটি কাটা এখন বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বলেন, অবৈধ ভাবে মাটি ও বালু উঠানো কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসছে প্রশাসন। কেউ সর্তা খাল থেকে অবৈধ ভাবে মাটি বালু উঠানোর প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।











