বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি ঘিরে গতকাল সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পৌরসদর এলাকায় পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে দুই যুবককে মহড়া দিতেও দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। এর আগে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই নেতার অনুসারীরা পৌরসদরের মুনস্টার কনভেনশন সেন্টারে কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ নিয়ে সকাল ১০টা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
সংঘর্ষের পর কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীরা সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় এবং আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা পৌরসদর এলাকায় অবস্থান নিলে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে র্যাব,পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিডিনিউজ জানায়, সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে এক পক্ষ গিয়ে বাঁশবাড়িয়া অবস্থান নিয়েছিল। আমরা তাদের সেখান থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। সংঘর্ষের জন্য উভয়পক্ষ পরষ্পরকে দোষারোপ করছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে। মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের জন্য তাদের দুই পক্ষ পৌরসভার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান আয়োজন করে। পরে দুই পক্ষকে আলাদা সময়ে অনুষ্ঠান করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুপুরের দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় দক্ষিণ বাইপাস এলাকার হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ হয়।
কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য আমরা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। সড়ক অবরোধের বিষয়টি অস্বীকার করে মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় তাৎক্ষণিক মিছিল করে। মিছিলে অনেক লোক সমাগম হয়েছিল। ওই কারণে কিছু সময় গাড়ি চলাচল আটকে যায়। ব্যারিকেড দেওয়া হয়নি।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির আসলাম অনুসারীদের অংশের সদস্য সচিব মো. মোরসালিন বলেন, মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে আমাদের অনুষ্ঠান ছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেটি বাতিল করে দেওয়ায় আমরা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমাদের অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা আসার সময় হামলা চালানো হয়। হামলায় তাদের পক্ষেরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করেন মোরসালিন।












