সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগীর চাপ

নিয়মিত টিকাদান, স্বাস্থ্যকর জীবন ও পরিচ্ছন্নতা নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে পারে : বিশেষজ্ঞ

জাহেদুল কবির | শনিবার , ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ

ঋতু পরিবর্তনের কারণে চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে নিউমোনিয়ার রোগী। এর বাইরে সম্প্রতি হামের উপসর্গের পাশাপাশি অনেক শিশু নিউমোনিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছে। এদের একজন ফটিকছড়ির বাসিন্দা এক বছর বয়সী নাইমা। শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে গত দুইদিন আগে চমেক হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসেন তার মাবাবা। প্রথমে সিট না পেয়ে তাকে মেঝেতে রাখা হয়। পরে আরো তিনজন রোগীর সাথে ভাগাভাগি একটি সিট দেয়া হয়। চিকিৎসকরা বুকের এক্সরে করে দেখেন শিশু নাইমা নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে, শ্বাসটান থাকায় মায়ের দুধও ঠিকমত পান করতে পারছে না। নাইমার মতো অনেক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের বেশিরভাগের বয়স ৫ বছরের নিচে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান, স্বাস্থ্যকর জীবন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এই তিনটি বিষয় নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। মানুষের মধ্যে নিউমোনিয়া সম্পর্কে অসেচতনতা রয়েছে। রোগী ও অভিভাবকের অজ্ঞতার কারণে অনেকে সময় মতো হাসপাতালে যান না। বিশেষ করে নগরায়ণের ফলে দূষণ এবং প্রান্তিক পর্যায়ে রোগীদের অসচেতনতায় নিউমোনিয়া বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। এরমধ্যে এক তৃতীয়াংশ আবার নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী। চাপ বাড়ার কারণে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিতেও বেগ পেতে হচ্ছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম মাশিশু ও জেনারেল হাসপাতালেও বেড়েছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। সাধারণত যেসব শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, তাদের নিউমোনিয়া বেশি হয়। এছাড়া প্রিম্যাচিউরড (সময়ের আগে জন্ম নেয়া) শিশুদেরও নিউমোনিয়া বেশি হয়। ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিজনিত কারণেও নিউমোনিয়া হয়। এখন নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে হলে গর্ভকালীন ও প্রসব পরবর্তী কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে গর্ভকালীন মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্বল্প বিরতিতে সন্তান জন্ম দিলেও সেই সন্তানের ওজন কম হতে পারে। মাবাবা কেউ ধূমপায়ী হলে সন্তানের নিউমোনিয়া হতে পারে। পর্যাপ্ত আলো বাতাস ছাড়া স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে থাকে। শিশু জন্মের পর থেকে ৬ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বুকের দুধে নিউমোনিয়া প্রতিরোধক ভিটামিন এ থাকে। ফিডারে কোনো কিছু খাওয়ানো যাবে না। নিয়মিত হাত ধোঁয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ঘরে বড় কারো সর্দি কাশি হলে শিশুদের তাদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। এছাড়া শিশুকে সরকার নির্ধারিত সব টিকা দিতে হবে। যেসব শিশুর ঘন ঘন সর্দি কাশি হয় তাদের বেসরকারি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা দিতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেঁজুতি সরকার বলেন, নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ। রোগের শুরুতে কাশি হয়, যা সাধারণত ২৪ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে কিছুক্ষেত্রে শিশুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তবে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে শিশুর বুক বেশি দেবে গেলে, ঘন ঘন শ্বাস নিলে, মায়ের দুধ পানে সমস্যা ও খিঁচুনি হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলডিসি উত্তরণে আরও সময় চাইল বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধশুকিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্না প্রকট হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট