যেখানে প্রতিনিয়ত মানুষ মৃত্যুর মিছিল দেখছে, সেখানে গান আর নাচের দৃশ্য দেখতে পাওয়া অদ্ভুতই বটে। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ঘটেছে এমন ঘটনাই। সেখানে এক ইবোলা রোগীর সফল চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাটি এখন বড় উদযাপনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দেখা গেছে স্বাস্থ্যকর্মীদের আনন্দ–উল্লাসের এক বিরল মুহূর্ত। গত শুক্রবার ঠিক দুপুরের পর, সবুজ স্ক্রাব পরা প্রায় ডজনখানেক স্বাস্থ্যকর্মী প্রশংসা গীতি গাইতে শুরু করেন, আমাদের ওপর কৃপা বর্ষিত হয়েছে, রোগীদের ওপর কৃপা বর্ষিত হয়েছে। এই গান গাইতে গাইতেই তারা রোগী দানিয়েল কিতাম্বালাকে ক্লিনিক থেকে বের করে নিয়ে আসেন। ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রায় তিন সপ্তাহ কাটানোর পর টানা দুটি ইবোলা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, তিনি সম্পূর্ণ ভাইরাসমুক্ত। মেডিকেল কর্মীরা যখন উল্লাস করছিলেন, তখন কিতাম্বালা নামের ওই ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান সংবাদমাধ্যম বিবিসি–কে বলেন, এই রোগটি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমি যখন এখানে এসেছিলাম তখন খুবই অসুস্থ বোধ করছিলাম। কিন্তু ঈশ্বর মহান, আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ। ৪৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তি একটি কালো টি–শার্ট ও প্যান্ট পরা ছিলেন। হাতে ছিল তার জীবাণুমুক্ত করা জিনিসপত্র ভর্তি একটি কালো পলিথিন ব্যাগ। চিকিৎসা কেন্দ্রের সীমানা নির্দেশক দুটি কমলারঙা জালের লাইনের মাঝখানের পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তার চোখে–মুখে ছিল স্বস্তি আর আনন্দের ঝিলিক।
উপকেন্দ্রের পরিস্থিতি ও কুসংস্কারের থাবা : ইতুরি প্রদেশে প্রায় এক মাস আগে ইবোলার বিরল বুন্দিবুগিও প্রজাতির প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, যা বর্তমানে এই মহামারীর উপকেন্দ্র। সেখানে ইতোমধ্যে ১৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের প্রতি পাঁচজনে একজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই ভাইরাসটি হয়ত কোনও লক্ষণ ছাড়াই গত কয়েক মাস ধরে অলক্ষ্যে ছড়িয়ে পড়ছিল।












