রামুতে দিনে-দুপুরে সাবাড় হচ্ছে ২০০ ফুট উঁচু একটি পাহাড়

২৩ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশের মামলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি | বুধবার , ১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের পূর্ব লামারপাড়ার ঘোনারপাড়া এলাকায় দিনেদুপুরে সাবাড় হচ্ছে ১০ একরের ২০০ ফুট উঁচু একটি পাহাড়। ইতিমধ্যে ঈদের ছুটি ও রাতের আঁধার মিয়ে ৪০ ভাগ কাটা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনার লামারপাড়ার ঘোনারপাড়া ও স্কুল পাড়া নামক দুটি পৃথক এলাকায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটায় ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর ও ডাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পরে এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১২ জনসহ ২৩ জনকে আসামি করে রামু থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানান, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অভিযোগ ও পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে রামু উপজেলা প্রশাসন ও কঙবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তরসহ পাহাড় কর্তনের স্থানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেকে পাহাড়ের উপরিভাগের ৮/৯টি পৃথক স্থান কর্তন করে প্রায় ৯০,০০০ (নব্বই হাজার) ঘনফুট মাটি কর্তন ও বিক্রয়ের সত্যতা পাওয়া যায়।

অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন করার সত্যতা পাওয়ায় অজ্ঞাতনামা ১২ জনসহ সর্বমোট ২৩ জনকে আসামি করে রামু থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কঙবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুছাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা এনাম ও যুবলীগ নেতা ওবায়দুল হকের নেতৃত্বে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তিনচারটি স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হয়। এছাড়াও ডাম্প ট্রাক দিয়ে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও মাটির জোগান দেওয়া হচ্ছে। পাহাড় কাটার কারণে রাস্তাগুলোও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বিধ্বংসী এ কর্মকাণ্ডে কেউ বাধা দিলে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

শুধু এ পাহাড়টি নয়, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সরকারি অফিস বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ এবং দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে অন্তত ৮টি পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বিচারে বালু উত্তোলনে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রাকৃতিক বন। বিশেষ করে কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লামারপাড়া ও উখিয়ারঘোনা এলাকায় ব্যাপকভাবে পাহাড় কাটা চলছে। দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের নামে সংরক্ষিত বন কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয় নেছার, নজির আলম, আমানের নেতৃত্বে ২০২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট পাহাড় কাটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতি করেন বলে জানান স্থানীয়রা।

কঙবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানের ছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে পাহাড় কেটে মাটি পাচারের অভিযোগে পাহাড়ের মাটিসহ একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করে কঙবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ। এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আসামিরা হলেন, দক্ষিণ মিঠাছড়ির নুরুল আবছার, মোক্তার আহমদ, জসিম উদ্দিন ও শফিকুর রহমান। অন্যদিকে দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে রামু থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন, মোক্তার আহমেদ মেম্বার ও মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন। পরিবেশ অধিদপ্তর কঙবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুছাইব ইবনে রহমান মামলাটি করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবার্ষিক কোটি টাকা আয়ে ৩৫% আয়কর বসানোর ভাবনা এনবিআরের
পরবর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে কিশোরীর লাশ উদ্ধার