রাঙ্গুনিয়ায় ধসে যাওয়া বেল্লাতল খালের কালভার্টে জরুরি সংস্কার শুরু

দৈনিক আজাদীতে সংবাদ প্রকাশের পর এমপি হুমাম কাদেরের নির্দেশ

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | সোমবার , ১০ আগস্ট, ২০২৬ at ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবনগর এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ধসে যাওয়া ‘বেল্লাতল’ খালের কালভার্টের এপ্রোচ (সংযোগ) সড়ক জরুরি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দৈনিক আজাদী পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি জনদুর্ভোগের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তা রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হয়। এরপরই এমপির নির্দেশে প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

জানা যায়, সমপ্রতি পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ইসলামপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর সড়কের প্রধান কালভার্টটি দুই পাশের সংযোগ সড়ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরাজীর্ণ এই কালভার্টটি দিয়ে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হচ্ছিলেন। দৈনিক আজাদীতে এই সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মো. ইকবাল হোসেনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন। সংসদ সদস্যের জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, ‘এমপি মহোদয়ের জরুরি নির্দেশনা পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক চলাচলের উপযোগী করতে কালভার্টের দুই পাশে টিনশেড ও বল্লি গেড়ে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। আপাতত এই জরুরি কাজের খরচ পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে সমন্বয় (অ্যাডজাস্ট) করা হবে।’

তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্টটির স্থলে একটি স্থায়ী নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে স্থানীয়দের যাতায়াত সচল রাখতে এমপির নির্দেশে এই জরুরি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে, যা একদিকে রাঙামাটি প্রধান সড়ক এবং অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চল ঘাগড়া সংযোগ সড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত। কালভার্টটি ধসে যাওয়ায় দীর্ঘ দিন চরম ভোগান্তির পর এমপির এই দ্রুত পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে আকস্মিক এই পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে সাহেবনগর এলাকার মৎস্য চাষি ও কৃষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খালের পাড়ের বেশ কিছু ঘরবাড়িও। কর্দমাক্ত সড়ক আর ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এই বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই অঞ্চলের সমস্যা নিরসনে ও রাস্তাঘাট মেরামতে আরও প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত
পরবর্তী নিবন্ধআঞ্জুমানে আশেকানে মোস্তফা ট্রাস্টের মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের প্রস্তুতি সভা