রিলিজিয়ন্স ফর পিস (আরএফপি) বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট ওয়ার অ্যান্ড ভায়োলেন্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড : ডায়ালগ ফর পিস অ্যান্ড সলিডারিটি’ শীর্ষক এক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ গত ৭ মে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমির জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ, সহিংসতা, ঘৃণা ও সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক সংহতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএফপি–বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সংলাপ পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ড. মাছুম আহমেদ। উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন আরএফপি–বাংলাদেশ উইমেন নেটওয়ার্কের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিসকাতুল মুমতাজ মুমু। সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন হেভেনলি কালচার, ওয়ার্ল্ড পিস, রেস্টোরেশন অব লাইটের (এইচডব্লিউপিএল) শান্তি শিক্ষা বিভাগের কো–অর্ডিনেটর বেঞ্জামিন কিম ও আন্তর্জাতিক পিস যুব বিভাগের কো–অর্ডিনেটর জ্যাকব বে। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠটির বাংলাদেশ সমন্বয়ক স্বপন দাশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ করেন আরএফপি–বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক ফারুক তাহের, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন নির্বাহী সদস্য ড. শ্রীপতি দাশ, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন কোষাধ্যক্ষ কবি বিশ্বজিৎ বড়ুয়া এবং পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন নির্বাহী সদস্য তেরেসা আইরিন গনসালভেস। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী সদস্য প্রফেসর রণজিৎ কুমার দে।
মূল বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মাছুম আহমেদ বলেন, শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়; বরং ন্যায়, মানবিক মর্যাদা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উপস্থিতি। তিনি সহিংসতা, বিভাজন ও ঘৃণার বিরুদ্ধে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও নৈতিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উন্মুক্ত আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষভাবে শান্তি মিছিল ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন, আন্তঃধর্মীয় সমষ্টিগত উদ্যোগ, শিশু ও তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি বিনির্মাণ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রদান, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জনমানুষের কণ্ঠস্বর সরকার ও নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রচারণা পরিচালনা, সংলাপ ও সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ড. এন এইচ এম আবু বকর, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সুভাষ চন্দ্র দে, অধ্যাপক সুজন কান্তি বিশ্বাস, অধ্যাপক ফারিয়া মাহজাবীন, অধ্যক্ষ দেবপ্রিয় বড়ুয়া, রেভারেন্ড কাঞ্চন বড়ুয়া, অধ্যাপক সুবীর মহাজন, শান্তিকর্মী জয়মালা বড়ুয়া ও রাদিয়া আহমেদ, সংস্কৃতিকর্মী শামীমা ইয়াসমিন, শিক্ষিকা কাজী সালামুন কাউলা সানি, শান্তিকর্মী এলি রানী বড়ুয়া, শিক্ষিকা বারবারা গোমেজ, সমাজকর্মী লোকপ্রিয় বড়ুয়া, শান্তিকর্মী স্মৃতি রানী ভট্টাচার্য ও শর্মিষ্ঠা তালুকদার, শিক্ষিকা কামরুন নাহার, পারিজাত, শান্তিকর্মী তপু চৌধুরী, শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা চৌধুরী, প্রবীণ রাজনীতিক তপন দত্ত, শান্তিকর্মী ও সংগঠক সনৎ কুমার বড়ুয়া, শান্তিকর্মী তাহমিনা আফরোজ প্রমুখ। এছাড়া আরএফপি–বাংলাদেশ ও এইচ ডব্লিউপিএলের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।














