ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানিদের মধ্যে ‘বিভেদ’ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘অশুভ শত্রু’ জনগণের মধ্যে ‘সন্দেহ, হতাশা, ভয়, অবিশ্বাস ও বিভেদের বীজ বপন’ করতে চাইছে। খবর বাসসের। বার্তায় বলা হয়, ‘এই অসৎ উদ্দেশ্যের মোকাবিলায় সবাইকে দৃঢ়তা, দূরদৃষ্টি এবং ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের অশুভ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুবার্ষিকীর ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ইমাম খামেনির এ বার্তা পাঠ করে শোনান।
১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তিনি নিহত হন, যার পর একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হয়। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেমে গেলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর ৪ জুন আলি খামেনি স্মরণানুষ্ঠানে ভাষণ দিতেন। তবে এ বছর তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত সমাধিসৌধে তার প্রতিকৃতিসহ একটি খালি চেয়ার রাখা হয় বলে রাষ্ট্রীয় সমপ্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে।
মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন এবং মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে ইরানিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সরাসরি সমপ্রচারে দেখা যায়, সমাধিসৌধে মোজতবা খামেনি এবং তার আগের দুই সর্বোচ্চ নেতার প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা এবং ইরান–সমর্থিত লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহর ব্যানার বহন করেন।











