বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা সংসদের কাছে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে গতকাল বুধবার সরকারদলীয় এমপি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। খবর বিডিনিউজের।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতার তথ্য তুলে ধরে বলেলেন, আপাতত তাদের সম্মানি ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেই। চুয়াডাঙ্গা–২ আসনের সদস্য মো. নুরুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আহমেদ আযম খান আরও বলেন, আপাতত উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে প্রতি বছরই চার হাজার টাকা করে তাদের চিকিৎসার জন্যে ভাতা দেওয়া হয় এবং যদি কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, স্বীকৃত হাসপাতাল থেকে আমরা এই মন্ত্রণালয় যখনই কোনো বিল পায়, মন্ত্রণালয় সেই বিলও পরিশোধ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় জীবননগর উপজেলা সদরে পাঁচতলা ভিতের ওপর তিনতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আযম খান। তিনি আরও বলেন, অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত জীবননগরে ২৪টি অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ৭৩২ বর্গফুট আয়তনের ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
পৃথক প্রশ্নের উত্তরে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, জামুকার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটি তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই–বাছাই করে।
অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগের আবেদন জামুকায় পাঠানো হয়েছে। সেগুলোর যাচাই–বাছাই ও তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লালমুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে। জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০৩টি সভার মাধ্যমে ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে বলেও সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।














