কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকায় আবারও অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছে। গতকাল শনিবার ভোরে পরিচালিত অভিযানে কারখানা থেকে অস্ত্র ও বিপুল সরঞ্জামসহ তিন কারিগরকে আটক করেছে র্যাব। আটককৃতরা হলো– মহেশখালী কালামার ছড়ার মৃত ফকির মোহাম্মদের পুত্র ফরিদুল আলম (৫৪), তার দুই পুত্র জিসাদ প্রকাশ সোনা মিয়া (২২) ও বাহিম (২০)। তারা চকরিয়া উপজেলার বরইতলী সোনা মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা।
র্যাব–১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে রোহিঙ্গাদের নিকট অস্ত্র সরবরাহ হয় বলে র্যাবের আভিযানিক দল তথ্য পায়। এর ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর রাতে মহেশখালী হোয়ানক ইউনিয়নের পূর্ব পুইরছড়াস্থ খঞ্জনির বাপের ঘোনা পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। র্যাবের অভিযানের বিষয়টি বুঝতে পেরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরা দুর্গম পাহাড়ের এদিক–ওদিক দৌড়ে পালিয়ে যেতে থাকে। এ সময় ধাওয়া করে অবৈধ অস্ত্র তৈরী, কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত চক্রের তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে অস্ত্র তৈরীর কারখানার অন্যতম কারিগর বাদশা মিয়া কৌশলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। পরে অস্ত্রের কারখানা থেকে দুটি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটার গান, অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদির মধ্যে লোহার তৈরী ড্রিল মেশিন, হাতুড়ি, করাত, চারটি লোহার পাইপ, দুটি লোহার ব্যারেল, হেঙো ব্লেড, দুটি লোহা কাটার ব্লেড, দুটি পাঞ্চিং রড, দুটি বড় নাট, রেঞ্চ, স্টিল সীড, তিনটি লোহার অংশ ও লোহার ব্রাশসহ ছোট–বড় ৫০টি অস্ত্র তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, অস্ত্র তৈরীর কারখানাটির অন্যতম কারিগর বাদশা মিয়া। তারা পাহাড়ে অবস্থান করে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অস্ত্র তৈরী ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা পরিচালনাসহ ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় এবং মাদকসহ নানাবিধ অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তারা কঙবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরীর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে দেশীয় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরী করতো। পরবর্তীতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অস্ত্র কঙবাজার শহর, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের কাছে চলে যেত।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত আলামতসহ আটককৃদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশখালী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।














