ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, পূর্বাভাসভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদের ইছামতি হলে ‘কার্যক্রম–পরবর্তী পর্যালোচনা কর্মশালা’ সোমবার (২৬ অক্টোর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা ‘BGD HF – Anticjpatory Action Trigger Based Pilot-2026’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বদিউজ্জামান, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আব্দুল আউয়াল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন এবং বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যাল, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
শুরুতে প্রকল্প পরিচালক নাসিমা বানু শ্যামলী প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৭ আগস্ট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম সতর্কবার্তার ভিত্তিতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে বাঁশখালীর চারটি ইউনিয়নের ৪২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে পরিবারপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। সেভ দ্য চিলড্রেনের নলেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার ওয়াজিহা ফাইজা প্রকল্পের সূচনা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও অর্জিত ফলাফল নিয়ে স্লাইড উপস্থাপনা করেন। আলোচনা পর্বে উপসচিব বদিউজ্জামান উপকারভোগী নির্বাচন, নগদ সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ এবং ভূমিধস প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র অফিসার মো. আখফারুজ্জামান রুবেল উপকারভোগী যাচাই–বাছাই ও সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আব্দুল আউয়াল নগদ সহায়তার উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে চান।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে সচেতন করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন ইপসার কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রকল্পের আওতা সমপ্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপকারভোগী নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। ইপসার কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিমের সঞ্চালনায় এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












