বিশ্বকাপে কনিষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়

রেজাউল করিম | বুধবার , ১ জুলাই, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড শেষে চলছে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা, যেটি নকআউট পদ্ধতির। মানে হারলে বিদায়। এবারের আসরে ৪৮ দলে মোট ১২৪৮ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। বয়স ১৭ বছর ২৪০ দিন। আর বয়স্ক খেলোয়াড় স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। যেদিন তিনি মাঠে নেমেছেন, সেদিন তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর ১৬২ দিন।

কমবয়েসী খেলোয়াড়

মেক্সিকোর তরুণ খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা। এর মাধ্যমে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন মোরা। ফিফা প্রকাশিত অফিসিয়াল তালিকা অনুযায়ী এবারের বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলে ২২ জন টিনএজার রয়েছেন। সবচেয়ে কমবয়েসীদের মধ্যে রয়েছে মেক্সিকোর মাঝমাঠের খেলোয়াড় মোরা। ২০২৪ সালের আগস্টে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকান প্রথম বিভাগে খেলতে নেমে মোরা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার জাতীয় দলে অভিষেক হয়। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও প্রিমিয়ার লিগের কিছু দল নিয়মিত টিনএজারদের নিয়ে কাজ করে আসছে ও তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে আরও কিছু উদীয়মান তারকা রয়েছেন যাদের দিকে সকলের নজর রয়েছে। আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী ইয়ান ডায়মন্ড বুন্দেসলিগায় লিপজিগের হয়ে দারুণ মৌসুম কাটিয়েছেন। লিগ ওয়ানে লিঁওর হয়ে খেলা ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এনড্রিক ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলছেন। ১৮ বছর বয়সী সেগোলিস ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপের মাধ্যমে সামনে আসেন। ইকুয়েডরের জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কেন্ড্রি পায়েজ। কিংবদন্তি ব্রাজিলের পেলে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে গোল করার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ১৯৫৮ সালে শিরোপা জয়ী ব্রাজিলে খেলেছিলেন ১৭ বছর বয়সী পেলে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ১৮ বছর বয়সে খেলতে নেমেছিলেন। বেশ কয়েকজন টিনএজার নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। যাদের মধ্যে স্প্যানিশ দুই তারকা ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল ও ১৯ বছর বয়সী পও কুবারসি অন্যতম। জার্মানির ১৮ বছর বয়সী লেনার্ট কার্ল বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আরও কিছু খেলোয়াড় যাদের বয়স ১৯ ছাড়িয়ে গেছে, তারাও প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। ২০ বছর বয়সী ওয়ারেন জেইরিএমেরে ও ২১ বছর বয়সী ডিসায়ার ডুয়ে ফ্রান্স দলের অন্যতম ভরসার নাম। দুজনেই দুইবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী পিএসজির খেলোয়াড়। ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় রয়েছেন ইংল্যান্ডের নিকো ও’রিলি ও বিদায়ী তুরস্কের আরদা গুলার। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে আছেন ২১ বছর বয়সী নিকো পাজ।

বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়

এবারের আসরে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় ছিলেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। যার বয়স ছিল ৪৩ বছর ১৬২ দিন। অন্যদিকে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোসহ (৪১) মোট সাতজন ফুটবলার আছেন, যাদের বয়স ৪০ বছর বা তার বেশি। ফুটবল দুনিয়ায় বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা আরও একবার প্রমাণ হয়েছে এই বিশ্বকাপে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যা এবার রেকর্ড ৮ জন। বিশ্বকাপের এক আসরে এত বেশি বয়সী ফুটবলার এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

১৯৩০ সালে ওয়ান্দা মেট্রোপলিটানো বা উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে আগের সব আসর মিলিয়ে ৪০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যাই ছিল মাত্র ৮ জন। আর এবার এক আসরেই মাঠে নামছেন ৮ জন বুড়ো তারকা। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের তালিকা বিশ্লেষণ করে এই রোমাঞ্চকর তথ্যটি সামনে এনেছে। এই আট খেলোয়াড় হলেন ক্রেগ গর্ডন (স্কটল্যান্ড), ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল), গিয়ের্মো ওচোয়া (মেক্সিকো), লুকা মদরিচ (ক্রোয়েশিয়া), এডিন জেকো (বসনিয়া), ম্যানুয়েল নয়ার (জার্মানি), জোসিমার দিয়াজ (কলম্বিয়া), ফার্নান্দো মুসলেরা (উরুগুয়ে)। এই আটজনের মধ্যে পাঁচজনই হলেন গোলরক্ষক গর্ডন, ওচোয়া, ম্যানুয়াল নয়ার, দিয়াজ ও মুসলেরা। আর এই পাঁচ গোলরক্ষকের মধ্যে গর্ডন ও দিয়াজ এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ সিআরসেভেনএর। রোনালদো পর্তুগালের হয়ে এ নিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছেন। একইভাবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন মেক্সিকোর প্রাচীরখ্যাত গোলরক্ষক ওচোয়াও (৪০)। সাধারণত এত বেশি বয়সে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিশ্বের শীর্ষ লিগের বাইরে খেলেন। তবে এই তালিকার ব্যতিক্রম কেবল লুকা মদরিচ (এসি মিলান) ও ম্যানুয়েল নয়ার (বায়ার্ন মিউনিখ)। তারা দুজনেই এখনও ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের এলিট ক্লাবে খেলছেন।

গর্ডন মাঠে নেমেছে, তবে ভাঙেনি সর্বকালের রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ডটি এখনও মিসরের সাবেক গোলরক্ষক ইসাম আল হাদারির। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ৪৫ বছর ১৬১ দিন বয়সে মাঠে নেমে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তিরা বিশ্বমঞ্চে তরুণদের পাশাপাশি পারফর্ম করে চলেছেন বয়স্করা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্রীষ্মের ছুটিতে
পরবর্তী নিবন্ধনতুন পদ্ধতিতে আবেদন জমার সময় জানাবে ভারতের ভিসাকেন্দ্র