ভিসা আবেদন জমার সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন; এখন থেকে যা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। গতকাল মঙ্গলবার ভিসা পেতে আগ্রহী আবেদনকারীদের নতুন পদ্ধতির বিষয়ে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) এক বার্তায় বলা হয়, ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশের সব আইভ্যাকে সকল ক্যাটাগরির ভিসার জন্য টাইম–স্লটভিত্তিক ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি আইভ্যাকের দৈনিক নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ধারণক্ষমতার উপর ভিত্তি করে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রমানুসারে টাইম স্লট বরাদ্দ করবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করার সময় আবেদনকারীদের ম্যানুয়ালি কোনো টাইম স্লট নির্বাচন করতে হবে না। ভিসা আবেদনপত্র সুষ্ঠু ও সময়মত জমা দেওয়ার স্বার্থে বরাদ্দ করা সময়ে আবেদনকারীদের আইভ্যাকে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা আবেদনগ্রহণ শুরু করেছে ভারত সরকার। এর তিন দিন আগে ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকায় ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দৈনিক ঘোষণার ভিত্তিতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধই রাখা হয়। গণআন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। ওই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীমিত পরিসরে আবার ভিসা আবেদনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। এরপর ১৬ অগাস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেবল সীমিত পরিসরে জরুরি ও মেডিকেল ভিসা দেবে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন। এতে ভারতীয় ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিরা ভোগান্তিতে পড়েন। ব্যবসার কাজেও অনেকে যেতে পারছিলেন না। মেডিকেল ভিসা সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও আবেদন জমা দেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলছিল না।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সেই অচলাবস্থা আর কাটেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। মে মাসের মাঝামাঝি খবর আসে, ভারত শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা চালু করতে যাচ্ছে। তারও দেড় মাস পর সুখবর দিলেন নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে ভারত।
সমপ্রতি আবেদনকারীদের অনেকেই বলেছেন, এখন ভিসা আবেদন করার সময়ে প্রয়োজনীয় নথিগুলো আপলোড করতে হচ্ছে। আগে আপলোড করা লাগত না। ভিসা আবেদনের সঙ্গে প্রিন্ট কপি জমা দিলেই চলত। বাংলাদেশিদের জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না ভারত। তবে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি হিসাবে এখন দেড় হাজার টাকা দিতে হয়। ২০২৫ সালের ১০ অগাস্টের আগে এই ফি ছিল ৮০০ টাকা।
এদিকে আরেক বার্তায় ভিসা আবেদনের টাইম স্লট পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এজেন্ট বা দালালের শরণাপন্ন না হওয়ার পরামর্শ আবেদনকারীদের দিয়েছে ভারত।










