দাদু, ঠাকুরমা তোমরা কোথায়? আমি আর বিট্টু এসে গেছি। উফ্, তাড়াতাড়ি এসো না! বিড়বিড় করতে করতে জুলি হাতের ব্যাগটা নিচে রেখে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো।
্যবাবা জুলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, আহা মা, এমন করিস না। মা নিশ্চয় কোন কাজ করছে। ঘরের ভেতর থেকে কাপড়ে হাত মুছতে মুছতে মিনু মাসী এসে বলল, ওমা, মামুনীরা এসে গেছো। তোমার দাদু তোমাদের জন্য কচি ডাব পাড়ছে। কেমন আছো তোমরা? বিট্টু হেসে বলল, ভালো। মিনু মাসী, তুমি কেমন আছো? বিট্টুকে কোলে নিয়ে মিনু মাসী বলল, তোমরা আসবে আর আমি ভালো থাকবো না, তাই কি হয়?
দাদু তখন হাঁক ছেড়ে বলল, কই গো, তাড়াতাড়ি এসো, তোমার নাতি নাতনি এসে গেছে। ঠাকুরমা এসে ডাবের পানি গ্লাসে ঢেলে দিয়ে বলল, নাও আগে এগুলো খেয়ে নাও। তারপর ছেলেকে বলল, হ্যাঁ রে বিশু, বৌমা আসে নি?
জুলি বলল, ঠাকুরমা, মায়ের ব্যাংক তো এখনো বন্ধ হয়নি। আমাদের স্কুল ঈদের আর গ্রীষ্মের ছুটির বন্ধ একসাথে হয়ে গেছে। বাবা আমাদের এখানে রেখে যাবে, মা পরে আসবে। দাদু বলল, আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। বিশু, তুই দুপুরে খেয়ে যাস। বিশু মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
জুলি ক্লাস সিক্সে পড়ে আর বিট্টু ফোরে। ওরা গ্রীষ্মের ছুটিতে ওদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে জুলি আর বিট্টু দাদুর সাথে ওদের ফলের গাছগুলো দেখতে দেখতে কিছু আম, জাম কুড়িয়ে নিলো।
দাদু হাঁটতে হাঁটতে বলল, জানিস, এই মৌসুমী ফলগুলো একেবারে নির্ভেজাল আর পুষ্টিকর। বিট্টু জাম খেতে খেতে বলল, দাদু, মৌসুমী ফল মানে কি?
দাদু বলল, যেসব ফল সারা বছর পাওয়া যায় না, বরং বছরের একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে প্রাকৃতিকভাবে পেকে খাওয়ার উপযোগী হয়, সেগুলোকে মৌসুমি ফল বলে। তাছাড়া মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী। নিয়মিত এগুলো খেলে শরীর নানা ধরনের রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষিত থাকে। জুলি, দেখি তুমি কয়েকটি মৌসুমী ফলের নাম বলো তো? জুলি মাথা চুলকিয়ে বলল, আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, জামরুল, বেল, কতবেল, লটকন….. যাহ্! ও দাদু, এখন তো আর মনে পড়ছে না। বিট্টু একটা ফলগাছ দেখিয়ে দাদুকে বলল, দাদু এটা কি ফলের গাছ? দাদু গাছটায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, এটা জামরুল গাছ। এই গাছটি আমার বাবা লাগিয়েছেন। অনেক পুরনো। কিন্তু এখনো প্রচুর পরিমাণে ফল ধরে। জুলি সামনে দৌড়ে গিয়ে বলল, এই যে দাদু মনে পড়েছে, এটা আমড়া আর ঐটা কামরাঙা গাছ। ঠাকুরমা লাগিয়েছে। এখনো ফলগুলো ছোট। দাদু বলল, হ্যাঁ ওগুলো বর্ষাকালে খাওয়ার উপযোগী হবে। তখন মিনু মাসী চিৎকার করে বলতে লাগলো, এই জুলি, বিট্টু, দাদুকে নিয়ে শীঘ্রই এসো, ঠাকুরমা নাস্তা নিয়ে বসে আছে।
বিকেলে দাদু ওদের দুজনকে নিয়ে পুকুর ঘাটে বসে বড়শিতে মাছ ধরার জন্য বসে গেলো। একটা মাঝারি সাইজের রুই মাছ দাদুর বড়শিতে দেখে বিট্টু খুশিতে লাফাতে লাগলো। জুলি একটা ঝুড়িতে মাছটি রাখলো।
দাদু বড়শিটা পানিতে ফেলে বলল, শোন বিট্টু, আগামীকাল তোদের সাঁতার শেখাবো। এটা শিখে রাখা খুব জরুরী। জুলি হাততালি দিয়ে বলল, কি মজা, কি মজা, আমি সাঁতার কাটতে পারবো। বিট্টু জুলিকে জড়িয়ে ধরে বলল, আমার ভয় করে, আমি শিখবো না। দাদু বিট্টুকে কাছে টেনে নিয়ে বলল, আমি আছি তো দাদুভাই, কোন ভয় নেই। চলো এবার ঘরে যাওয়া যাক। ঠাকুরমা তোমাদের জন্য কাঁঠাল নিয়ে বসে আছে। মিষ্টি কাঁঠাল। জানো তো ‘ফল খেলে বল বাড়ে’। তারপর সন্ধ্যায় ছাদে বসে ঠাকুরমা তোমাদের গল্প শোনাবে। জুলি আর বিট্টু পুকুর পাড় থেকে দাদুর সাথে ঘরের দিকে পা বাড়ালো।








