পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বান্দরবানে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ৩ টি ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খান, সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, সেনা রিজিয়নের জিএসও–২ মেজর পারভেজ,ক্ষুদ্র নৃ– গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের (কেএসআই) পরিচালক নুক্রাসিং মারমা প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের ভাষা শিক্ষা কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক,পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাংলাদেশের ক্ষুদ্র– নৃগোষ্ঠীর যে সকল নাগরিক বসবাস করছে তাদের নিজস্ব ভাসা,সংস্কৃতি,ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের সংস্কৃতি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামকে বৈচিত্র্যময় করেনি, আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম সুন্দর,এমনটা নয়,এখানের এগারোটি টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব,ভাষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম সুন্দর। আয়োজকরা জানায়, ১৩ আগস্ট থেকে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর ভাষাকেও এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি বছর ৩ টি ভাষা শিক্ষা কোর্সে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে প্রতিটি ভাষায় ৩০ জন করে শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। কোর্স পরিচালনায় বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ এবং ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (কেএসআই) প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সহায়তা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে কোর্স সম্পন্ন করে সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের প্রশিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।












