বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একশত পরিবারকে নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী

| শুক্রবার , ৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ

বাঁশখালী উপজেলায় সামপ্রতিক ভয়াবহ বন্যায় গৃহহীন হওয়া ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কঙবাজার ও চট্টগ্রাম সফরকালে বাঁশখালীতে আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে এসব ঘরের চাবি ক্ষতিগ্রস্ত পবিরারের হাতে তুলে দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। বন্যার পানির তোড়ে গৃহহারা পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে যখন অসহায় অবস্থায় ছিলেন ঠিক সেই সময়ে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগে তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়। নিজের ভিটায় ভেঙে যাওয়া বাড়ি সরকার নির্মাণ করে দিচ্ছে এবং সেই বাড়ি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে তুলে দেবেনএমন প্রাপ্তিতে তারা আনন্দে উদ্বেলিত। তারা প্রধানমন্ত্রীকে কাছে থেকে এক নজর দেখতে পাওয়া এবং নতুন ঘরের চাবি বুঝে নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। খবর বাসসের।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ১০ জন করে মোট ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি খরচে তাদের বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে আরসিসি পিলার, কাঠ এবং টিন। টিনের ঘেরা ও ছাউনি দেওয়ার কারণে বাড়িগুলো ‘দুর্যোগ সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি করে কক্ষ থাকবে। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার থাকবে। বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী জানান, বন্যায় বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া যে পরিবারগুলোর নতুন বাড়ি করার মতো সামর্থ্য নেই তাদেরকেই প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী রবিবার চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলার সফর করবেন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে সামপ্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ইতোমধ্যে বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বাঁশখালী সফর এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন ঘরের কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থল ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক সেখানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, অতিথিদের বসার স্থান এবং অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি বাঁশখালীর বাহারছড়ায় অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছি। অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি দেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচানায় রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

আজাদীর বাঁশখালী প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে বাঁশখালীর সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে সার্বিক সহযোগিতা পায় আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাঁশখালী আগমনকে কেন্দ্র্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে হেলিপ্যাড এবং সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রধানকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছেন উপকূলীয় এ জনপদের মানুষ। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ স্থলে নিরাপত্তা নিয়োজিত এসএসএফ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ বাহিনী , জেলা ও বাঁশখালী প্রশাসন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ দিকনির্দেশনা মূলক বৈঠক করেন। সমাবেশ মঞ্চ ও হেলিপ্যাড এলাকার নিরাপক্তা সহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়। গতকাল বৃস্পতিবার সমাবেশ স্থলের আশে পাশে সরজমিনে ঘুরে ও স’ানীয় জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের প্রধান প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে সামপ্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক বাস্তবায়ন করা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে : অধ্যাপক ইউনূস
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক নেবে ওমান, ভিসা আবেদন জমা নেওয়া শুরু