চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বহন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম।
শনিবার (২২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে এসব দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিকরা আক্রান্ত হন। প্রথমে নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
স্কপের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক পক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শ্রমিকদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় মালিকপক্ষকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও বয়স বিবেচনায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্কপের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—সব শিপইয়ার্ডে নিরাপদ, শোভন কর্মপরিবেশ ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন; কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও শ্রমিকের মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ; ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সরকারি পরিদর্শন ও তদারকি; এবং জাহাজভাঙা শিল্পের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সুপারিশকৃত ন্যূনতম মজুরি ২২ হাজার টাকার গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়ন।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব। শিপইয়ার্ডে ‘মৃত্যুর মিছিল’ বন্ধ করতে মালিকপক্ষ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক মো. খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমূল। আরও উপস্থিত ছিলেন এ এম নাজিম উদ্দিন, তপন দত্ত, এস কে খোদা তোতন, মো. নুরুল আবছার ভূঁইয়া, কাজী আনোয়ারুল হক হয়নী, এ কে এম মোমিনুল ইসলাম, লেখা রানী বড়ুয়া, ফজলুল কবির মিন্টু, কে এম শহীদুল্লাহ, নুরুল আবছার তৌহিদ, আবু আহমেদ, রিজওয়ানুর রহমান খান প্রমুখ।











