চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, ফটিকছড়ি ও আনোয়ারা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো কর্ণফুলীর মোহাম্মদ বিন মনির (৬), ফটিকছড়ির সায়রা মনি (৫) এবং আনোয়ারার মোহাম্মদ হোসেন (২)।
কর্ণফুলী প্রতিনিধি জানান, উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নে পুকুরে গোসল করতে নেমে মোহাম্মদ বিন মনির নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ফকির মৌলানা আশরাফ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ মনিরের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে পুকুরে গোসল করতে যায় শিশুটি। প্রায় এক ঘণ্টা পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিকলবাহা সাউথ হাসপাতালে এবং পরে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মোহাম্মদ বিন মনিরকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শিশুটির চাচা মোহাম্মদ আমান বলেন, আমার ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ছিল সে। মাদ্রাসা থেকে এসে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল। সে সাঁতারও জানত। তারপরও কীভাবে যে ডুবে গেল, বুঝতেছি না। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতেছি না।
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি জানান, উত্তর ফটিকছড়ির ভূজপুর থানার নারায়ণহাট ইউনিয়নে পুকুরে ডুবে সায়রা মনি নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে ইউনিয়নের শৈলকুপা এলাকার মরহুম আবুল বশর মেম্বার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সায়রা মনি ওই বাড়ির মো. আব্দুল হালিমের ছোট কন্যা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে তলিয়ে যায় শিশুটি। পরবর্তীতে তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, এবাদত খানার পুকুরে ডুবে মেয়েটি মারা গেছে। প্রথমে তার মা–বাবাও জানতো না সে এ পুকুরে ডুবে মারা গেছে। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তার মরদেহ পুকুরে ভেসে উঠে। অভিভাবকরা সচেতন না হলে এমন মৃত্যু বন্ধ হবে না।
আনোয়ারা প্রতিনিধি জানান, নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ হোসেন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। সে বাঁশখালী উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে। কয়েকদিন আগে বরুমচড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে পুকুর থেকে থেকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. পূজা মিত্র বলেন, বিকেল চারটার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।










