পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, বন, নদী–ঝিরি ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রকৃতি’ নামের একটি বই। বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে।
গতকাল বুধবার সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ‘প্রকৃতি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদ, সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বন বিভাগের কর্মকর্তা, লেখক, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে বিভিন্ন লেখকের লেখা এবং আলোকচিত্রে সমৃদ্ধ করা হয়েছে বইটিকে। বইটিতে পাহাড়ের বন ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব, পরিবেশের ওপর নানা ধরনের চাপ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতি রক্ষায় মানুষের করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ের প্রকৃতিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ পাঠকদের জন্যও বইটি একটি তথ্যভিত্তিক প্রকাশনা হিসেবে ভূমিকা রাখবে। বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির প্রতিষ্ঠাতা সবুজ চাকমার সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস মেহেদী, পৌর প্রশাসক রুমানা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহাফুজ, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক প্রভাংশু ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যেহ্লা মং মারমা, পিঠাছড়া বন্য প্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল, শিক্ষাবিদ মধুমঙ্গল চাকমা, সমাজকর্মী ধীমান খীসা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার। দেশের মোট জীববৈচিত্র্যের বড় একটি অংশ এ অঞ্চলের পাহাড়ি বন, ঝিরি, ছড়া, নদী ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। তাই পাহাড়ের পরিবেশের কোনো একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পড়ে পুরো প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো .আনোয়ার সাদাত বলেন, তিন পার্বত্য জেলা –খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান–এর পরিবেশগত গুরুত্বের বিষয়টিও। তিন জেলার পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, বনভূমি, ঝিরি–ছড়া, নদী, বাঁশঝাড়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও নানা ধরনের উদ্ভিদ পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বতন্ত্র প্রতিবেশব্যবস্থা তৈরি করেছে।
‘প্রকৃতি’ বইয়ের সম্পাদনা করেছেন সাংবাদিক সমীর মল্লিক। এটি তাঁর সম্পাদনায় বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির প্রথম প্রকাশনা।












