পর্যটন বাংলাদেশের জন্য অমিত সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র

বিশ্ব পর্যটন দিবসের সভায় জেলা প্রশাসক

| সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, পর্যটন খাতের বিকাশে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার চিন্তা থেকে বেরিয়ে পর্যটকের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সেবার মানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পর্যটন বাংলাদেশের জন্য অমিত সম্ভাবনার অন্যতম একটি ক্ষেত্র। কিন্তু আমরা সেই সম্ভাবনাকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছি না। চট্টগ্রামের সমুদ্র, পাহাড় ও ঐতিহ্যকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে।

গতকাল রোববার বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগামীর পর্যটন’। আলোচনা সভার পূর্বে পর্যটন দিবস উপলক্ষে সার্কিট হাউজ থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা যোবাইদা আক্তার, পর্যটন হোটেল সৈকতের ম্যানেজার হাসনাত বারী, হোটেল–রেস্তোঁরা মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইলিয়াছ আহমদ ভূঁইয়া, জেলা হোটেল–রেসেঁ্তারা মালিক সমিতির সভাপতি সালেহ আহমদ সোলেমান আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন। সরকারি কর্মকর্তা, হোটেল–রেস্তোরাঁ মালিক ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা র‌্যালি ও সভায় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় ডিসি বলেন, পরিকল্পনা ও গবেষণার ঘাটতি, পর্যটকবান্ধব সেবার অভাব এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারায় বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পর্যটকের নিরাপত্তাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খাদ্যনিরাপত্তা, চলাচল, আবাসন ও সেবার মানকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটকের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টির পরিবর্তে তাৎক্ষণিক মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতাও বদলাতে হবে।

চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে নগরটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পর্যটকবান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যাশার কথাও জানান জেলা প্রশাসক জাহিদ। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমুদ্র, পাহাড় ও লেকের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এসব প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় ও কৃষির পাশাপাশি পর্যটনও দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠতে পারে।

হোটেল–রেস্তোঁরার কর্মীদের তালিকা জেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যটকদের সঙ্গে আচরণ, স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্যনিরাপত্তা ও সেবার মান বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেকনাফে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ তিনজন আটক
পরবর্তী নিবন্ধলামায় পাহাড়ে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ