একেক পরিবারের গল্প একেক রকম। একজন সম্মানিত ব্যক্তিও ঘরে সবার থেকে সম্মান পান না। বাইরের মানুষ কত সম্মান দেখান,কত প্রশংসা করেন,কত গুণের কদর করেন, কিন্তু বাসায় পরিবারের কাছে সে লোক খুব সামান্য ও কখনো কখনো তুচ্ছ ব্যক্তি। তাদের কাছে নিজেদের স্বার্থ আগে, যে বাবা বা মা সব চাহিদা পূরণ করতে পারবে তারাই ভালো। কোন কিছু দিতে না পারলেই খারাপ। পরিবারের সকলে একই রকম হন না। আর একেকজনের পছন্দ ও ভালোবাসা একেক রকম। এই পরিবারে বসবাস করতে গিয়ে নিজের অনেক সুখ, সাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করতে হয়, কখনো বাবাকে, কখনো মাকে। কোন পরিবারে বাবা ভালো তো সন্তান ভালো নয়,কোন পরিবারে স্ত্রী সন্দেহ প্রবণ কিন্তু স্বামী ভালো। আবার কোন পরিবারে টাকার খুব অভাব, কোন পরিবারে টাকা আছে,ক্ষমতা আছে কিন্তু চরিত্র ও মুখের ব্যবহার ভালো নয়।তাই টাকা থেকেও সুখ নেই। অথবা বাবা,মা সবাই ভালো কিন্তু সন্তান বিপথগামী।
আসলে যারা বাইরে সমালোচনা করে আমার বাচ্চা এটা করলে তাকে মেরেই ফেলতাম। তারা জানেই না ঐ পরিবারে কতটা সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে আর সন্তানকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সঠিক পথে আনতে পারছে না। অনেকে বলে এরকম স্বামী হলে আমি ফেলে চলে যেতাম, যখন নিজের সংসারে ঝামেলা হয়,তখন চুপ করে যান।অন্যের বেলায় বললেও নিজের ক্ষেত্রে সেই রকম সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। একটা পরিবারে,স্বামী স্ত্রী, সন্তান,বৃদ্ধ পিতা মাতা ছাড়াও আরো কিছু আত্মীয় স্বজন থাকেন। এখানে একেক জনের ভুমিকা একেক রকম। কারো সাথে করো জীবন মিলে না। স্বপ্নের মতো গুছানো হয়না সবার জীবন। পরিবারে অনেকে উজাড় করে সর্বস্ব দিয়েও সুখী হতে পারে না অনেক আত্মত্যাগী মানুষ। কখনো অপবাদ,কখনো লাঞ্ছনা,কখনো তিরস্কার, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে স্ত্রীকে মারও খেতে হয়,অথবা স্বামীকে মানসিক নির্যাতন , যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।।সবাই বাইরের ফিটফাট টা দেখে ঘরের ভেতরের অবস্থা কেউ বুঝতে পারে না। একমাত্র ঘরের লোক বুঝতে পারে কতটা কষ্ট সহ্য করতে হয় নিয়মিত।রাতের অন্ধকারে মানুষের জীবনের অন্ধকার দিকও বাসার চার দেয়ালের ভিতর চাপা পড়ে যায়। সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু সমাধান অনেক কঠিন। রোজ কোন না কোন পরিবার ভাঙছে, আর এর পেছনের কারন হলো একজন আরেকজনকে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান না করা।মতের প্রাধান্য না দেয়া, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধন না থাকা।ভালোবাসা এক তরফা হয় না,ভালো থাকতে হলে পরিবারের সকলে সকলকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে,মতামত এর প্রাধান্য দিতে হবে, আন্তরিক ও সহযোগিতা মূলক আচরণ হতে হবে। নারীরা চেষ্টা করে সংসার নামক পরিবারটাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে কিন্তু তাও মাঝে মাঝে সম্ভব হয়ে ওঠে না। পরিবার যেমন জীবনে আনন্দের খোরাক জোগায়, তেমনি ভেতরে ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে নিঃস্বও করে দেয় পরিবারের অশান্তি। সুখী পরিবারের গল্প গড়ে উঠুক স্বার্থপরতা ত্যাগ করে। স্বপ্নের মতো সুন্দর হোক পারিবারিক বন্ধন। জীবন হোক সকলের আনন্দময়।












