সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সমপ্রতি যারা নির্বাচিত হয়েছে, তাদের ‘পূর্ব কার্যকলাপ এবং ডকুমেন্টস ও কাগজপত্র’ যাচাইয়ে ‘পুলিশি তদন্তের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পার্বত্য বাদে ৬১ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক (নিয়োগ) আইরিন পারভীন। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বিকালে বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীরা শুধু নিজ জেলায় আবেদন করার সুযোগ পান। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজ নিজ জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়কে ওই জেলায় নির্বাচিত প্রার্থীদের আগের কার্যকলাপ পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের অনুরোধ করবেন। আর প্রার্থীদের দেওয়া ডকুমেন্টস ও কাগজপত্রের সত্যতাও যাচাই করার ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে গত ৫ নভেম্বর রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্কুলগুলোর জন্য সহকারী শিক্ষকের ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে গত ১২ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্কুলগুলোর জন্য ৪ হাজার ১৬৬টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে গত ৯ জানুয়ারি জেলায় জেলায় লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ চাকরি পেতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫ জন আবেদন করলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন।
এ পরীক্ষায় ‘অসদুপায় অবলম্বন’ ও ‘ডিভাইস ব্যবহারের’ অভিযোগ সারাদেশে দুই শতাধিক প্রার্থী বহিষ্কৃত হন বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন প্রার্থীদের একাংশ।
পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরগুলো লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের জন্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।
এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরীক্ষা নিয়ে এসব প্রার্থীদের ‘তড়িঘড়ি’ করে নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ৩ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে যোগদান শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা যোগ্য কি না, কোনো ঘাটতি আছে কি না– সেটা দেখা হবে। ধরুন তাদের যোগদানের পর পিটিআইতে ট্রেনিং নেবে; সেখানে যদি তারা ফেল করে, তাহলে তো আর শিক্ষক হতে পারবে না। তাছাড়া সরকারি বিধিতে যেটা আছে যে–চাকরিতে যোগদানের পর তারা সাকসেসফুলি যদি দুই বছর পার করতে পারে, তাহলে তাদের রাখব, পারমানেন্ট করব। সবকিছুই করা হবে দেশের শিক্ষার স্বার্থে। আমরা সবাই চাই–যোগ্য শিক্ষকরা নিয়োগ পাক, আমাদের সন্তানদের পড়াক।’














