নাজিরহাট আবু সোবহান সড়ক উন্নয়ন কাজে পুনরায় অনিয়মের অভিযোগ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের দায়ে এক বছর কাজ বন্ধ ছিল। প্রশাসনের চাপে ফটিকছড়ি নাজিরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আবু সোবহান সড়ক উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু হয়। তবে এই কাজে আবারও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোভিড প্রকল্পের আওতায় আবু সোবহান সড়কের ২৭৬০ মিটার কার্পেটিংয়ের এই কাজটি শুরু হয়। পুরো প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০২৫ সালে সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ এক বছর সড়কটি মেকাডম অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। ফলে বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে।

সমপ্রতি প্রশাসনের কড়া নির্দেশনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় কাজ শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলায় মেকাডম করা সড়কে যেসব বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল, তা ভরাটের জন্য নিয়ম অনুযায়ী ভালো খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদার সেখানে খোয়ার গুঁড়ি মিশিয়ে দায়সারাভাবে সমান করে। সর্বশেষ কার্পেটিং করার সময় মূল জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসে। নিয়মানুযায়ী বিটুমিনের সাথে পাথর নিখুঁতভাবে মিশ্রিত করে সড়কে বিছানোর কথা থাকলেও, ভালো করে মিশ্রণ ছাড়াই শুকনা সাদা পাথর ঢেলে দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি হাতেনাতে ধরে সেসব খোয়া তুলে পেলতে বাধ্য করেন। এছাড়া সড়কে যেখানে ৪০ মিলিমিটার পুরুত্বের বিটুমিন দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে কিছু কিছু জায়গায় মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মিমি পুরুত্ব দিয়ে কার্পেটিং শেষ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে নাজিরহাট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী উম্মে সালমা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের কারণে গত বছরই কাজটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পরে সেসব ত্রুটি দূর করে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। এরপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা তাদের কাজ করতে দিইনি। কাজে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূলত ঠিকাদার কাজটি সঠিকভাবে না করে, একটি ঝামেলা পাকিয়ে মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যাওয়ার জন্য এই ধরণের নয়ছয় করছে। আমাদের পুরো প্রজেক্টের মধ্যে এখন শুধু এই একটি সড়কের কাজই বাকি আছে। এই কাজটি সফলভাবে শেষ করে বুঝিয়ে দিতে পারলে আমরা প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের বরাদ্দগুলো পাব। আমরা ঠিকাদারের এই খামখেয়ালিপনা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। এ ব্যাপারে নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও এসিল্যান্ড রহমত উল্ল্যাহ বলেন, খোয়ার গুঁড়ি মিশিয়ে গর্তে দেয়ার ভিডিও আমি দেখেছি। এসব সড়িয়ে নিতে বলা হয়েছে। এখন যে অভিযোগ আসছে এ ব্যাপারে আমরা দেখছি। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন ধরনের বক্তব্য দিবেন না বলে জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদোহাজারী স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি দাবি