রেলওয়ে, চসিক ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভুয়া বিল দেখিয়ে রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল দেখিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ে, সিটি কর্পোরেশন ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এ দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের, অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রতারণা, জাল–জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া বিল দেখিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। যা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটে উল্লেখ করে এজহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’–এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ কোন এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। এজহারে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আমলে নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাজেক সড়কে ৫ম দিনের অবরোধ,বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
পরবর্তী নিবন্ধক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া