ব্রাইড অফ দি মাউনটেইন। বেশ কাব্যিক ভাব আছে নামটাতে। বাংলা কী হবে এর? পার্বত্য কনে?
নাহ, তাতে কেমন জানি কাব্যভাবটা যাচ্ছে উবে। পাহাড়ি কনেই বরং ভাল। শৈলবালা, গিরিকন্যাও হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বেশী কাব্যময় মনে হচ্ছে, পাহাড়িকন্যা।
এই মরুতে এসে কেউ কবিতা খুঁজে কি না? জানি না। শুধু আরবি কবিতা না, গোটা কবিতা বিষয়েই জ্ঞান অধমের লবডঙ্কা। তারপরও এটুকু তো জানি যে, আরবদের প্রতিবেশী সংস্কৃতির দেশ পারস্যে, কী রমরমা অবস্থাই না ছিল কবিতার ও কবিদের, একসময়। অকবি আকাট মূর্খ এ অধমও তাইতো জানি ফেরদৌসি, খৈয়াম, সাদি, রুমি নামের কবিকূল শিরোমণিদের! আচ্ছা, যে মরুতে লাইলি মজনুর জন্ম, সেখানে কবি ও কবিতা থাকবে না, এরকম আচানক বেখাপ্পা ঘটনা হয় নাকি? প্রেম ও কবিতার তো জানি হাত ধরাধরি করে চলাই নিয়ম!
এমনতরো ভাবনায় খাচ্ছি খাবি যখন, তখনি কালো কাকচক্ষু দীঘির জলের উপরে মাথা তুলে রাখা লাল পদ্মের মতো, মনের দীঘিতে টুপ করে ভেসে উঠল নাম, ইমরুল কায়েস! কবে কোথায় পড়েছিলাম, নাকি কার কাছে যে শুনেছিলাম এই নাম, পড়ছে না মনে। ঐ কবির কোন কাব্যানুবাদ কখনও যে পড়িনি, তা নিশ্চিত। তবে ইসলামপূর্ব আরবে মরুকবিদের অধীশ্বর ইমরুল কায়েস রচিত কাসিদা, ঘুরে যে বেড়াত বেদুইনদের মুখে মুখে, তা যে পড়েছিলাম কোথাও বা শুনেছিলাম কারো কাছে, নাই সন্দেহ এ বিষয়ে।
কপাল ভাল, আজকাল ইন্টারনেট মহাসড়ক উন্মুক্ত হয়ে পড়ায়, অধমের মতো আমড়া কাঠের ঢেঁকিদেরও হাতে এসেছে দারুণ সুযোগ। ইমরুল কায়েসের নাম মনে হতেই, হাতের কাছে চুপটি করে ঘাপটি মেরে থাকা ডিজিটাল ইন্দুরের দিয়েছিলাম টিপে পেট তাই। জেনেছি তাতে, ইসলামপূর্ব আরবে মুয়াল্লাকাত নামের ইম্রুলের কাসিদার জয় জয়াকারের কথা! ইসলাম পরবর্তী সময়ে আরব কবিতার সেই ধারা, প্রথমে থমকে দাঁড়ালেও, অচিরেই পেয়েছিল নতুন পথ। এতেই কী না জাগল প্রশ্ন মনে, আচ্ছা পারস্যে ঘটেছিল কী তাহলে? সাদি, খৈয়াম, রুমিরা তো জন্মেছিলেন আরবদের হাতে পারস্য সাম্রাজ্যের পতনের পরই।
অতএব দিলাম ডুবসাঁতার পারসিক কবিতা বিষয়ক সরোবরে। জানলাম, আরবদের হাতে পারস্যের পতন হতেই, সেই জনগোষ্ঠীর শিল্প সংস্কৃতিতে শুরু হয়েছিল দুইশ বছর দীর্ঘ নিস্তবতার শতক। তারপর ঠিকই পারস্যের কবিরা, আরবি ও ইরানী সংস্কৃতির সমন্বয়ে জন্ম দিয়েছিলেন, কবিতায় নতুন ধারার। করেছিলেন গোড়াপত্তন কবিতার এক সোনালি যুগের।
আরেহ! ওইটাই তো স্বাভাবিক। “আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে? আমার চোখ বান্ধিবি, মুখ বান্ধিবি, পরান বান্ধিবি কেমনে?’
আচমকা শাহ আবদুল করিম এসময় নিউরনে ঝংকার তুলতেই, নির্দ্বিধায় হতেই হল একমত। সাথে মনে হল, আরে সাধারণের মন বাঁধারই যখন নাই কোন শিকল, সেই জায়গায় কবিদের মন, কী করে হয় বিকল? নিশ্চয় আছেন এখনো কবিরা এ মরুতে। তবে আছেন আমার মতো মূর্খের ধরাছোঁয়ার বাইরে, এই যা!
না থাক, কূপমণ্ডূক এই আমি, এবিষয়ে বেহুদা লাফালাফি আর না করি। তাতে বিভ্রান্তিজনিত বিরক্তিই উৎপাদিত হবে, বোদ্ধামননে। কপাল ভাল যে, বোদ্ধারা আদৌ পড়বেন না আমার লেখা। তারপরও ঝুঁকি নেবার কী দরকার? ফিরে যাই বরং পাহাড়িকন্যার কাছেই। ঐ নামের কাব্যিক ব্যঞ্জনাতেই তো ছুটির দিনের এই ঘোরতর মরুদুপুরে জেগেছিল অকস্মাৎ কাব্যতৃষ্ণা! হবেই বা না কেন? এখন পর্যন্ত দেখা আদিগন্ত বাদামি খড়খড়ে এই মরুতে, ঐ রকম সবুজ শ্যামল পাহাড়ি কোন শহর থাকতে পারে, দূরতম কল্পনাতেও তো ভাবিনি? ইংরেজি, “সিয়িং ইজ বিলিভিং” সূত্র মেনে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে চৌদ্দগুনেরও বেশী বড়, প্রায় ২.২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার আয়তনের সৌদির গোটাটাকেই, অবচেতনে ধরে নিয়েছি বালুকাময় বিস্তীর্ণ মরুভূমিই। হ্যাঁ , এর মাঝে মাঝে যে খর্জূরবৃক্ষ সমৃদ্ধ মরূদ্যান আছে, আছে হেরা পর্বতের মতো পাথুরে পাহাড়, জানতাম তাও। আসলে আপামর বাঙ্গালী মুসলমানের ধ্যানে জ্ঞানে সৌদিতো প্রধানত কাবা ও মসজিদে নববি কেন্দ্রিক উট খেজুর আর মরুবালি সম্পর্কিত পবিত্রভূমি। ফলে সেই শৈশবে এই অধমের মনে যে মানচিত্র হয়েছিল আঁকা দেশটির, ছিল তাতে জেদ্দা, মক্কা আর মদিনাই প্রধান। হুম, ডাকটিকিট সংগ্রাহক হিসেবে রাজধানী রিয়াদের নামও জানতাম। ১৯৮০ দশকে কাজের খোঁজে মরুতে আসা বঙ্গসন্তানদের বরাতে দাম্মাম, দাহরান, আল খোবার, শহরের নামও শুনেছি। সেসময় তরল সোনা, পেট্রোডলার এসবও সৌদির সমার্থক হয়ে উঠেছিল বাঙালীর কাছে। কিন্তু আভা নামের পাহাড়িকন্যার কথা? শুনলাম তো তা, এইতো সেদিনই প্রথম!
থাক ওসব কথা। প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হবার আগ পর্যন্ত রাজধানী আভা সহ আসির নামের গোটা ঐ প্রদেশটিই ছিল অটোমান সাম্রাজ্যভুক্ত । এছাড়া সে সময়ের পশ্চিমের হেজাজ রাজ্য, যার গুরুত্বপূর্ণ শহর মক্কা, মদিনা, জেদ্দা সহ আল হাসা অঞ্চলও ১৯১৩ সনের আগ পর্যন্ত ছিল, অটোমানকব্জায়।
এখনকার রিয়াদ, গাসিম, আল খারজ সহ দিগন্ত বিস্তৃত হাজার লক্ষ কোটি টন বালুতে বালুতে বালুকাময় মধ্য অংশটিতে ছিল নজদ রাজ্য। নজদের দিকে অটোমানরা ফিরেও তাকায়নি। কারণ ফসলী জমিহীন, প্রাকৃতিক সম্পদহীন হওয়া ছাড়াও, এরাজ্য ছিল সমুদ্র উপকূল থেকে বহুদূরে। ফলে ল্যান্ডলকট বা ভূবদ্ধ নজদ রাজ্য ছাড়াও রাব আল খালি, মানে বর্তমান সৌদির দক্ষিণপূর্বাংশের বিস্তীর্ণ উষর মরুকে অটোমানরা উপেক্ষাই করেছিল।
১৯৩২ সনের সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখে বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সাউদ, কিংডম অফ হেজাজ ও সালতানাত অফ নজদকে একীভূত করে বর্তমান রাষ্ট্রটির গোড়াপত্তন করেছিলেন। তার আগে সুবিশাল এই মরুর নানান অংশ অটোমান সম্রাট ছাড়াও ছিল নানান উপজাতি নেতাশাসিত অঞ্চলে বহুধাবিভক্ত।
একটা বিষয়ে ছিলাম বেশ খটকায় বহুদিন। তা হল, এটা জানা ছিল যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে, ঐ সময়ের মহাপরাক্রমশালী ব্রিটিশদের সহায়তাতেই বাদশাহ আজিজ এঁকেছিলেন সৌদি আরবের মানচিত্রটি। তারপর ১৯৩৩ সনে যেই না মার্কিন স্ট্যান্ডার্ড ওয়েল কোম্পানি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, মরুবালিতে তেলের গন্ধ পেলো, সেই বাদশাহই, টুক করে কী না গেলেন ঢুকে উদীয়মান বিশ্বশক্তি আমেরিকার বলয়ে! হয়েছিল কেন এমন?
মিলল সে প্রশ্নের উত্তর এখন। জানা গেল বছরের যেদিন বাঙালী আজকাল মহাসমারোহে ভালবাসা দিবস পালন করে, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৪৫ এর সেই দিনটিতেই। সুয়েজ খালের পাহারায় নিয়োজিত আমেরিকান নৌবাহিনীর জাহাজ কুয়েন্সিতে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের ও বাদশাহ সউদের ঐদিনই হয়েছিল প্রথম মোলাকাত।
তাতে বাংলা সিনেমার প্রথম দর্শনে প্রেমে পরার সূত্র মেনে সেদিনই অলিখিত বিখ্যাত কুয়েন্সীপ্যাক্টের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন দুইজন। যেই প্যাক্টের মোদ্দা কথা, খুবই সোজা সাপটা। তা হল সৌদি তৈলসম্পদের উপর আম্রিকান একচ্ছত্র অধিকারের বিনিময়ে আম্রিকা সৌদি রাজপারিবারের ও সৌদি রাষ্ট্রটির নিরাপত্তার নিশ্চিত করবে!
আগে নিজ খটকার উত্তর খুঁজতে গিয়ে, এক গল্প এসেছিল কানে। সে মোতাবেক, নিজ দেশের বিস্তীর্ণ মরুর গহীন কন্দরে তরল সোনার সমুদ্রের খোঁজ পাওয়ার পর, বাদশাহ আজিজ ঠিকই বুঝেছিলেন সৌদির বৈজ্ঞানিক বা কারিগরি দক্ষতা তো দূরের কথা, হজভিত্তিক তাদের অর্থনীতির আর্থিক সক্ষমতাও নাই, ঐ সোনাকে মুক্ত করার। অতএব দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি, একে একে প্রধানমন্ত্রী চার্চিল ও প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের।
তো চার্চিলের সাথে দেখা হওয়ার মুহূর্তে, স্বভাবসুলভভাবে নাকউঁচা ব্রিটিশ কেতায় চার্চিল চুরুট টানতে টানতে ভুস ভুস করে ধোঁয়া ছাড়ছিলেন। ফাঁকে ফাঁকে চুমুকও দিচ্ছিলেন হুইস্কির গ্লাসে। দুটো বিষয়কেই মহামান্য বাদশাহ তাঁর আরব সংস্কৃতিজাত স্মভ্রমবোধের নিরিখে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অসৌজন্যমূলক গণ্য করেছিলেন। লেগেছিল ঘা বেজায় তাঁর বাদশাহি মেজাজে। তবে মুখ খোলেননি।
এরপর রুজভেল্টের সাথে মিটিংয়ে, প্রথমত বাদশাহের মুখ যায়নি ঢেকে সিগারেট বা চুরুটের ধোঁয়ায়। দ্বিতীয়ত নাকে তাঁর হামলা করেনি সাক্ষাৎ হারাম মদ্য। তৃতীয়ত রুজভেল্টের সামগ্রিক আচরণ ছিল আরবি কেতার সাথে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাতেই নাকি গিয়েছিল পাশা উল্টে ।
এ গল্প কবে কার কাছে শুনেছিলাম, মনে নাই। তবে অসমর্থিত এই গল্পটি বলেছি আমি নানান সময়ে পেশাগত আলোচনায়। ব্যবসায়ে সংস্কৃতির গুরুত্বের উদাহরণ হিসেবে। আজই জানলাম যে ওটা আসলে শুধুই গল্প নয়। জেনেছি আরও চার্চিলের সাথে মিটিং হয়েছিল রুজভেল্টের সাথের আলোচনার তিন দিন পরই। আগে নয়।
আগের শোনা গল্পের সাথে ইন্টারনেটের বিবরণ অনেকটাই মিলে গেছে। তবে মিলে গেলেই যে সত্যি হবে এমন তো নয়। তারপরও এ আসলেই যদি সত্যি হয়, তবে ধূমপান ও মদ্যপান না করার ব্যাপারে সাবধান করে দেবার পরও, তাতে কর্ণপাত না করে চার্চিল যে আগামী কত শতাব্দীর জন্য বড় ব্রিটিশ ভুলটির সূচনা করেছিলেন তা কে জানে?
আবার মারফির আইন মেনে সাংস্কৃতিক ভুলের সাথে রাজনৈতিক ভুলও করেছিলেন, চার্চিল। প্যালেস্টাইন নিয়ে হয়েছিল মতবিরোধ দু’জনের। সর্বোপরি, শাঁকের আটি হিসেবে বাদশাহর মনে আগে থেকেই তো ছিল, প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে সহযোগিতার বিনিময়ে কাঁধে চেপে বসা নানান বিট্টিশ বিধিনিষেধের কথা!
হ্যাঁ, গতকালই প্রথম অফিসে দিয়েছিল উকি আভার রিপ্রেজেন্টেটিভ।পরিচয়পর্বঅন্তে আমার প্রশ্নের জবাবে, আলেকজান্দ্রিয়ার ওমর আবদুল খালেদের দিয়েছিল আভাবিষয়ক হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা। যা শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল, গনগনে চুলার উপরে বসানো উত্তপ্ত লোহার কড়াইয়ে টগবগ ফুটতে থাকা বাস্পের আঁচে হাঁসফাঁস অবস্থা আমার যখন, ঠিক তখন আছে দাঁড়িয়ে ওমর সবুজ শ্যমালিমায়! হাতে ধরা প্রাণশীতলকারী ঠাণ্ডা লেবুর সরবত।
অবাক হওয়ার পিঠাপিঠি কৌতূহলীও হয়েছিলাম বেজায়। তাইতো আজ বৃহস্পতিবার, মানে সাপ্তহিক ছুটির দিনের অলস দুপুরে, বেরিয়ে পড়েছিলাম ইন্টারেনেটের মহাসড়কে, আভার উদ্দেশ্যে। তাতে, ‘ব্রাইড অফ মাউন্টেইনে’ হয়েছিলাম প্রথমে কাব্যাক্রান্ত। অতঃপর এ অকবির অনুসন্ধিৎসা, স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে চলে গিয়েছিল ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি আর রাজনীতিতে– অতি দ্রুত ঐ সব পথের নানান গলি ঘুপচি আর কানাগলিতে ঘুরতে গিয়ে হয়েছি, বিভ্রান্ত। খেয়েছি হোঁচটও। তারপরও এখন যেমন পরিষ্কার জানলাম, ১৯৪৫ সনেই আমেরিকান একাধিপত্যের বীজ রোপিত হয়েছিল এই মরুতে, তা তো বুঝিনি আগে। তারচেয়েও বড় কথা, ঐ পাহাড়িকন্যা বিষয়ে জেনেছি যা, বুঝেছি তাতে সাদাকালো মরুসংস্কৃতির দেশটির মধ্যে আভা অনন্য ও রঙ্গিন। সে খোঁজ পেয়েছে খোদ ইউনেস্কোও। যেমন আজকাল আমাদের দেশের নগর সংস্কৃতিতে চালু হওয়া বৈশাখী বা বসন্ত উৎসবে যেমন নারীরা মাথায় ফুলেল ব্যান্ড পরে, সেই ব্যান্ড নাকি পরে আভায়, পুরুষরা!
আভামগ্ন ওমর খালেদ, সবুজ শ্যামল আভার বর্ণনা দেবার সাথে জানিয়েছিল সারা বছরের কখনোই এসির দরকার পরে না ওখানে। খুব জোর ফ্যান চালালেই হয় তুমুল গ্রীষ্মেও। গতকালের ওমরের বয়ান ইন্টারনেটের বরাতে আজ ছবি হয়ে চোখের সামনে ফুটে উঠতেই, হয়েছি তুমুল মুগ্ধ ও বিস্মিত!
এরপর পাহাড়িকন্যার আবহাওয়া বিষয়ক বিবরণ পড়ে ওটিকে মরুর বুকে জীবনানন্দীয় হৈমন্তী কিম্বা শারদনগর হিসেবে মানতেই হল। অতএব লাইলিনগর, মেদান সালেহের পাশাপাশি রাখলাম টুকে এই হৈমন্তীনগরের নামও। সুযোগ করে যেতে হবে অবশ্যই। নাহ, একটু চা খাওয়া যাক এখন।
এই ভাবনায় যেই না রান্নাঘরমুখি বাড়িয়েছি পা, ফোনের পিছুডাকে ঘুরে ফোন ধরতেই, ওপাশ থেকে ভেসে এলো এখানে আমার নানান অগতির গতি জিয়ার কণ্ঠ– ‘সেলিম ভাই, কী করেন? আমি হারা যাওয়ার জন্য বের হইছি। দেশী সব্জি, মাছ, আর টুকটাক বাজার করতে হবে। ভাবলাম আপনে গেলে আপনারেও নিয়া যাই। আপনেরে বলছিলাম কি যে, এইখানে আমাদের দেশের সব সব্জি পাওয়া যায় এক্কেবারে তাজা। বাঙালী কিন্তু এই মরুতেই ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স, টমেটো পুইশাক সবই ফলায়।’ খুব ভাল করছেন জিয়া। চা বানাইতেছি। চইলা আসেন।
লেখক : প্রাবন্ধিক, ভ্রমণ সাহিত্যিক।











