১৫০ বছরের অধিক পুরোনো, দেশের শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজের ধ্বংসকৃত ঐতিহ্যবাহী গেইট পুনঃনির্মাণে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ‘চট্টগ্রাম কলেজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ’ এর একটি প্রতিনিধি দল সিডিএ কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করে চট্টগ্রাম কলেজের শত বছরের গেইটটি পুনঃনির্মাণ ও এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। জবাবে তিনি এর পুনঃনির্মাণের আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডা. কিউ এম অহিদুল আলম। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মোহাম্মদ আলী মনসুর, ইউসুফ শিকদার, অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, শেখ রফিক উদ্দিন, সদস্য সচিব সোহাইল উদ দোজা সোহেল, এয়াকুব আলী রানা, ইয়াসমিন আক্তার রোজী, ইকবাল আহমেদ ও সাংবাদিক ইমতিয়াজ উদ্দিন। প্রতিনিধি দলটি সিডিএ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন, কলেজের মূল প্রবেশদ্বার, যা খ্যাতনামা শিল্পী সবিহ্ উল আলম–এর নকশায় ১৯৬৯ সালে কলেজের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হয়েছিল, তা গৌরব ও ইতিহাসের এক জীবন্ত নিদর্শন ছিল। তার ভাষায় গেইটটি জ্ঞান অর্জনের প্রতীকী প্রকাশ। গেটের স্থাপত্যে থাকা দুটি অক্ষর অ এবং ক ছিল ‘একয়ার নলেজ’ এর সংক্ষিপ্ত রুপ, যা কোনোভাবেই অন্যকিছু নয়। সিডিএর মাধ্যমে কলেজ রোড প্রশস্তকরণ, কলেজের সীমানাপ্রাচীর পুনঃনির্মাণ, কলেজ মাঠসহ বেশ কয়েকদিকের গেইট সংস্কারকালে দুঃখজনকভাবে একটি ভ্রান্ত জনশ্রুতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যানের একটি বিতর্কিত টেন্ডারবাজির মাধ্যমে ঐতিহাসিক অর্থবহ গেটটি বিনা অনুমতিতে ভেঙে ফেলা হয়।
প্রতিনিধিদল দাবি জানায়– ১) চট্টগ্রাম কলেজের অর্থবহ মূল গেটটি পুনঃনির্মাণ ও স্ব–স্থানে মূল নকশাকারের নির্দেশনামত হুবহু পুনঃস্থাপন করা হোক। ২) এটি ভাঙার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং ৩) ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক, নান্দনিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপত্য সংরক্ষণের জন্য সিডিএর অধীনে একটি ‘হেরিটেজ প্রোটেকশন সেল’ গঠন করা হোক।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রতিনিধিদলকে জানান, তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান (সিডিএ) চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তথা চট্টগ্রাম কলেজের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হবেন এবং তিনি এ কাজে সচেতন নাগরিকের নৈতিক সমর্থন পেলে চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই অপূর্ণ অধ্যায় পুনরায় পূর্ণতা পাবে বলে বিশ্বাস করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।











