টেকনাফে বাস থামিয়ে বিকাশ এজেন্টের ৫৭ লাখ টাকা লুট

সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ছোড়া হয় গুলি বিকাশকর্মীকে মারধর ও ছুরিকাঘাত

কক্সবাজার প্রতিনিধি | সোমবার , ৩ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ

টেকনাফকক্সবাজার সড়কে দিনদুপুরে ব্যারিকেড দিয়ে বাস থামিয়ে বিকাশের এক সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভকে ছুরিকাঘাত করে ৫৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতরা। গতকাল রোববার দুপুর ২টার দিকে সড়কের টেকনাফ স্থলবন্দরসংলগ্ন ১৪ নম্বর সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত বিকাশ এজেন্টের কর্মী মো. আল আরমান (২৬) টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকায় বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিকেল পাঁচটায় মো. আল আরমানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসের এক যাত্রী জানান, কক্সবাজারমুখী পালকি পরিবহনের বাসটিতে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। বেলা পৌনে দুইটার দিকে বাসটি দমদমিয়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি অস্ত্রধারী ডাকাত দল সড়কে গাছ ফেলে বাসটি আটকায়। এ সময় কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে পাঁচ থেকে ছয় মুখোশধারী বাসে উঠে বিকাশ এজেন্টের দুই বিক্রয় প্রতিনিধিকে খুঁজতে থাকে। এরপর একজনকে ছুরিকাঘাত করে ও অপরজনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে টাকার দুটি ব্যাগ নিয়ে বাস থেকে নেমে পড়ে। বিকাশের কর্মী আরমানের ডান হাতের বাহু ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় একরাম হোসেন নামে বিকাশের আরেক প্রতিনিধির মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করা হয়। ডাকাতেরা নেমে গেলে বাসটি কিছু দূরে থাকা দমদমিয়া বিজিবি চেকপোস্টে গিয়ে ডাকাতির ঘটনা জানালে বিজিবি ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন।

বাসচালক ফয়েজুল করিম বলেন, সড়কে ফেলা গাছের গুঁড়িতে লম্বা পেরেক লাগানো ছিল। এ কারণে গাছের ওপর দিয়ে বাসটি টেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া কয়েকজন মুখোশধারী যুবক বাসের সামনে অস্ত্র তাক করে রেখেছিল।

টেকনাফের বিকাশ এজেন্ট ও ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, সকালে তিনি টেকনাফের সীমান্ত ব্যাংক থেকে গ্রাহককে প্রদানের জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। দুপুরে বিকাশের দুই প্রতিনিধিকে ৫৭ লাখ টাকা দিয়ে বাসে হোয়াইক্যং পাঠান। ওই টাকা হ্নীলা, লেদা ও হোয়াইক্যং বাজারের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু মুখোশধারী ডাকাত দল বাসে উঠে সব টাকা লুটে নিল। ৫৭ লাখ টাকার মধ্যে আরমানের কাছে ছিল ২২ লাখ টাকা, আর অপর কর্মী একরাম হোসেনের কাছে ছিল ৩৫ লাখ টাকা। একরাম হোসেনের বাড়ি উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া এলাকায়। মারধরে তিনিও আহত হয়েছেন। তাকে টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দিনদুপুরে ব্যস্ত টেকনাফকক্সবাজার সড়কে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে চাহিদার অর্ধেক গ্যাস