টেকনাফে ট্রলারডুবিতে ১৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, নিখোঁজ ১৩

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শনিবার , ১ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে রোহিঙ্গাবাহী একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় চার মাঝিমাল্লাসহ ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে ট্রলারে থাকা আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিজিবি।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ট্রলারের মাঝি নুর কামালের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের খায়ুনখালী এলাকা থেকে ২৭ রোহিঙ্গাকে নিয়ে বাংলাদেশে রওনা দেন তারা। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর এলাকায় পৌঁছালে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। তার দাবি, ট্রলারে থাকা ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি নয়জন সাঁতরে চলে গেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া অন্যান্যরা দাবি করছেন, আরো ১৩জন নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা কাশেম আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা মিয়ানমারে আটকা ছিলেন। সেখানে খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে রওনা দেওয়ার পর গোলারচর এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, সকালে নৌকাডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় মাঝিমাল্লাসহ ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। কেউ নিজেদের আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্য, আবার কেউ সাধারণ রোহিঙ্গা বলে দাবি করছেন। একইভাবে তারা কবে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন, সে বিষয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। কারও দাবি, তিন বছর আগে, কারও দুই বছর আগে, আবার কেউ ছয় মাস আগে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন। সেখানে খাদ্য ও বাসস্থানের সংকট দেখা দেওয়ায় তারা আবার বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা কি কারণে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবির পদক্ষেপের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরুমায় পাহাড়ের খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধসড়ক নির্মাণ বন্ধে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ, এলজিইডি সচিবকে চিঠি