সড়ক নির্মাণ বন্ধে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ, এলজিইডি সচিবকে চিঠি

মহেশখালীর সংরক্ষিত বন

মহেশখালী প্রতিনিধি | শনিবার , ১ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ২২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর পাহাড় ও বন রক্ষায় বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে গেলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে স্থানীয়দের মধ্যে। জনদুর্ভোগ লাঘবে পুরোনো এই সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কটি পুনঃনির্মাণ করা না হলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সড়ক নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের অধীনস্থ মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজাটি বাংলাদেশের একমাত্র সাগরবেষ্টিত পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপের একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বন। ১৯৫৪ সালে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি ১০০ বছরের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৫৭ সালে এলাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সমপ্রতি এই বনের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের তথ্য পায় মন্ত্রণালয়। চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬এর ধারা ৭() এবং জাতীয় বননীতি, ২০২৫ অনুযায়ী সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, মন্ত্রিসভার সম্মতি এবং সরকারপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনভূমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল বৃক্ষ নিধন হবে। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়াসহ তাদের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হবে। পুরো বনজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত এলজিইডির এই সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এই সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারের দুটি বিভাগের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এলজিইডি একে জনস্বার্থে উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করতে চাইলেও বন বিভাগ একে দেখছে আইনবিরোধী ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ উদ্যোগ হিসেবে। মহেশখালীকুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ সড়ক নির্মাণের পক্ষে ডিও লেটার দিলেও বন বিভাগের আপত্তির কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

এলজিইডির মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রায় ২২ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরে ৪.১৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএম ঘাট থেকে শুরু হয়ে কালারমারছড়ায় গিয়ে মিশেছে প্রায় ৪.৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তাটি। পাহাড়ের ওপর দিয়ে যাওয়া এই পথের দুই পাশে ঘন বন থাকলেও এটি তাদের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের পুরোনো পথ। সড়কটি পাকা হলে এই এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য গাড়িতে করে উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো সহজ হতো। সড়কটি পাকাকরণের পক্ষে স্থানীয়রা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেকনাফে ট্রলারডুবিতে ১৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, নিখোঁজ ১৩
পরবর্তী নিবন্ধবাঁশখালীতে চিংড়িঘের দখল নিয়ে দুপক্ষের গোলাগুলি, নিহত ১