টিসিবির প্যাকেজে নিম্নমানের পণ্য দামও বাড়তি, ক্রেতারা অসন্তুষ্ট

ভোক্তাদের অভিযোগ : সয়াবিনের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে পামঅয়েল, মসুর ডাল রান্না করলেও সিদ্ধ হয় না

শুকলাল দাশ | শুক্রবার , ৩ জুলাই, ২০২৬ at ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকি মূল্যের পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। ভোক্তাদের অভিযোগ, আগের তুলনায় পণ্যের মান কমেছে, আবার একই সঙ্গে প্যাকেজের দামও ১২৮ টাকা বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে টিসিবির একটি প্যাকেজে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান ও ডিটারজেন্ট পাউডার দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব সাবান ও ডিটারজেন্টের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। ২১নং জামালখান ওয়ার্ডের টিসিবি কার্ডধারী কয়েকজন সুবিধাভোগী আজাদীকে জানান, প্যাকেজের কোনো পণ্যের মানই সন্তোষজনক নয়। সাবান দিয়ে কাপড় ভালোভাবে পরিষ্কার হয় না, ডিটারজেন্টেও ময়লা ঠিকমতো ওঠে না।

অভিযোগের বিষয়ে টিসিবির ডিলার ভাই ভাই স্টোরের মালিক ইয়াসিন বলেন, টিসিবি থেকে যে যে পণ্য সরবরাহ করা হয়, সেটিই তারা বিক্রি করেন। পণ্যের মান বা দাম নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। নিম্নমানের পণ্য হওয়ায় ক্রেতারা অসন্তুষ্ট। তাদের অনেকে এ সকল পণ্য নিতে না চাওয়ায় আমরা পড়েছি চরম ভোগান্তিতে। তিনি আরও বলেন, আমরা ডিলাররা এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

টিসিবির বর্ধিত আইটেম হিসেবে সরবরাহকৃত ডিটারজেন্ট পাউডার, লন্ড্রি সাবান ও সাবানের মধ্যে ‘সাফ’ ও ‘চাকা’ ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারে তেমন পরিচিত নয়, অথচ এসবের মূল্য বাজারদরের চেয়েও বেশি। টিসিবির ভোক্তারা সাশ্রয়ের জন্য পণ্য কিনতে আসেন, কিন্তু এসব আইটেম কিনতে অতিরিক্ত প্রায় ১২৮ টাকা ব্যয় হওয়ায় তারা কিনতে আগ্রহী নন। ফলে বিক্রয়কেন্দ্রে প্রায়ই ডিলার ও ভোক্তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে কোতোয়ালী থানাধীন টিসিবির দুই ডিলারের সাথে কথা হলে তারা আজাদীকে জানান, টিসিবি থেকে যে যে পণ্য সরবরাহ করা হয়, সেটিই তারা বিক্রি করেন। পণ্যের মান বা দাম নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। নিম্নমানের পণ্য হওয়ায় অনেকে এ সকল পণ্য নিতে না চাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানান।

গত বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একই প্যাকেজের আওতায় মেরিল সাবান, সাফ ডিটারজেন্ট পাউডার এবং নিম্নমানের পামঅয়েল তেল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ভোক্তারা টিসিবির পণ্যে ফ্রেশ, পুষ্টি বা বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল পান না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব তেল পার্বত্য জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হয়, আর চট্টগ্রাম শহরে পাম অয়েল বা ননব্র্যান্ড রাইস ব্র্যান তেল দেওয়া হয়। ফলে এ এলাকার ভোক্তারা মানসম্মত পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

নগরীর আরও কয়েকটি ওয়ার্ডের ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উন্নতমানের সয়াবিন তেলের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে পাম অয়েল। ফলে সরকার যে সুবিধা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, তার পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।

গত দুইদিন নগরীর জামালখান, আন্দরকিল্লা ও দেওয়ানহাট এলাকায় ডিলার পয়েন্টে বেশ কয়েকজন টিসিবি কার্ডধারীর সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় ডিলারের সরবরাহকৃত সাফ নামক ডিটারজেন্ট পাউডারে ঠিকমতো ফেনা ওঠে না, সাবান ব্যবহার করলে চুলকানি হয়, মসুর ডাল দীর্ঘ সময় রান্না করলেও সিদ্ধ হয় না এবং সয়াবিন তেলের পরিবর্তে নিম্নমানের পামঅয়েল তেল দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকরা এসব নিম্নমানের পণ্য বাতিল করে উন্নত মানের পণ্য সরবরাহের দাবি জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেন।

তবে এসব অভিযোগ শুনতে রাজী নন টিসিবির চট্টগ্রাম অফিসের কর্তারা। তাদের দাবি যে সব পণ্য দেয়া হচ্ছেতা নিতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রথম দিনেই চট্টগ্রাম বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ৩৪০ পরীক্ষার্থী
পরবর্তী নিবন্ধবিশ্ব ফুটবলে পরাশক্তিদের আধিপত্যে ধস