প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা!
আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন! জেনে রাখুন ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম মানুষের জীবন, সম্পদ, সম্মান ও অধিকারকে পবিত্র ঘোষণা করেছে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, আমানত যথাযথ ভাবে আদায়, আত্নীয় স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার সংরক্ষণ এবং অত্যাচারিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমান পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘন দুর্নীতি, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, সম্পদ আত্মসাৎ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, এসব সমস্যা সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকে সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। এ প্রসঙ্গে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করার প্রয়াস পাব। ১. ইসলামে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা, ২. ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, ৩. আমানতদারিতা ও দায়িত্বশীলতা, ৪. আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীর অধিকার, ৫. জুলুম অত্যাচার প্রতিরোধে দায়িত্ব।
ইসলামে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা:
মানবাধিকারের মূলভিত্তি হলো মানুষের জীবন, মর্যাদা, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা। ইসলাম মানুষের মর্যাদাকে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি তাদের উত্তম রিজিক দান করেছি এবং আমার অসংখ্য সৃষ্টির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। (সূরা: আল ইসরা, ১৭:৭০)
এ আয়াত থেকে বোঝাযায়, মানুষের মর্যাদা রক্ষা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। কাউকে অপমান করা অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ কেড়ে নেওয়া, অত্যাচার করা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী।
মানব জীবনে তাকওয়া মর্যাদার মাপকাঠি:
জাতি, গোষ্ঠী সম্পদ, বর্ণ, যশ–খ্যাতি, শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়, তাকওয়া শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “হে মানব মন্ডলী! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ সবকিছু সম্পর্কে অবহিত। (সূরা: আল–হুজুরাত, ৪৯:১৩)
এই আয়াত মানবজাতির ঐক্য, পারস্পরিক পরিচয় এবং নৈতিক সমতার এক অনন্য ঘোষণা। জাতি বংশ ভাষা গায়ের রং কিংবা সামাজিক অবস্থান বা আর্থিক প্রতিষ্ঠা মানুষের প্রকৃত মর্যাদার মাপকাঠি নয় বরং আল্লাহর কাছে মর্যাদার প্রকৃত ভিত্তি হলো তাকওয়া। সুতরাং ধনী–দরিদ্র, শক্তিশালী–দুর্বল কিংবা পরিচিত–অপরিচিত সবার সঙ্গে ন্যায় সংগত আচরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
জীবন সম্পদ ও সম্মানের পবিত্রতা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্বের ভাষণে মানুষের জীবন সম্পদ ও সম্মানের পবিত্রতা ঘোষণা করে বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের পরস্পরের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান তোমাদের জন্য পবিত্র ও হারাম। (সহিহ বুখারি, কিতাবুল হজ্ব)
এ হাদিসের শিক্ষা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কোনো মানুষের জীবন বিপন্ন করা, তার সম্পদ আত্মসাৎ করা, তার সম্মান নষ্ট করা বৈধ নয়। ইসলামে মানবাধিকার শুধু বক্তব্যের বিষয় নয় বরং বাস্তব জীবনে তা সংরক্ষণ করা ঈমানি দায়িত্ব।
মানব জীবনে ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা: ন্যায় বিচার একটি আদর্শ সমাজের ভিত্তি। যে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় সেখানে মানুষের অধিকার সংরক্ষিত থাকে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা, সুদৃঢ় পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে যে সমাজে বিচার ব্যবস্থা দুর্বল দুনীতি ব্যাপক অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয় সে সমাজে অশান্তি নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয় স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দেওয়ার
নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। (সূরা: আন–নাহল, ১৬: ৯০)
ইমাম কুরতুবি (রহ.) তাঁর “আল জামি লি আহকামিল কুরআন” তাফসির গ্রন্থে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ন্যায় বিচার ও সদাচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আয়াতটি ইসলামের নৈতিক ও সামাজিক বিধানের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি।
নিজের ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধেও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা: অনেক সময় মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলীয় স্বার্থ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বন্ধুত্বের সম্পর্কের কারণে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে সত্যকে গোপন করে জেনে শুনে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করে প্রাধান্য দেয়, শটতা, কপটতা, প্রতারণা, জাল জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে। ইসলামে তা সম্পূর্ণরূপে হারাম। এ ধরণের পক্ষপাত ইসলাম কখনো সমর্থন করেন না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সত্য সাক্ষ্য দাও। যদিও তা তোমাদের নিজেদের পিতা–মাতা অথবা আত্বীয় স্বজনের বিরুদ্ধে যায়। (সূরা: আন–নিসা, ৪:১৩৫)
আল্লাহ তা’আলা আরও ইরশাদ করেন, কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায় বিচার না করতে প্ররোচিত করে তোমরা ন্যায় বিচার করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। (সূরা: আল–মায়িদা, ৫:৮)
কেউ তোমাদের বিরোধী হলেও তার প্রতি অন্যায় করা যাবেনা, ইসলামের ন্যায় বিচার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের উর্ধ্বে।
প্রশাসনে ন্যায় বিচার: ন্যা বিচারের পরিধি ব্যাপক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন তোমরা আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দেবে এবং মানুষের মধ্যে বিচার করলে ন্যায় বিচারের সঙ্গে বিচার করবে। (সূরা: নিসা, ৪:৫৮)- এ আয়াত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ, সাংসদ, প্রশাসক, শিক্ষক, অভিভাবক, চেয়ারম্যান, মেম্বার, জনপ্রতিনিধি এবং দায়িত্বশীল প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। সে দায়িত্ব তার কাছে পবিত্র আমানত। তাঁর অবস্থান থেকে বিচারকের ভূমিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ন্যায় বিচারের জন্য সুসংবাদ: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারীর জন্য সুসংবাদ দিয়েছেন, ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে নূরের মিম্বরে অবস্থান করবে। তারা হলো সেই ব্যক্তিরা যারা নিজেদের বিচারকার্যে পরিবার পরিজনের ক্ষেত্রে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ন্যায় বিচার করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৭)- অতএব ন্যায় বিচার শুধু আদালতের দায়িত্ব নয় বরং পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্র ও সমাজের সর্বত্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।
আমানতদারিতা ও দায়িত্বশীলতা:
আমানতের অর্থ ও গুরুত্ব: আমানত বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। মানুষের সম্পদ ও অধিকার সংরক্ষণ করা এবং প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির প্রতি বিশ্বস্ত থাকা। আল্লাহ তা’আলা মু’মিনদের গুণাবলি বর্ণনা করে বলেন, “আর যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে”। (সূরা: আল মুমিনুন, ২৩:৮)
প্রখ্যাত তাফসিরকার ইমাম কুরতুবি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় আমানতের আলোচনায় শরীয়তের বিধান, মানুষের অধিকার ও বিভিন্ন দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আমানত শুধু কারও টাকা পয়সা বা মূল্যবান জিনিস পত্র সংরক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দ্বীনের বিধান পালন, দায়িত্বশীল পদে সততা, শিক্ষাদানে নিষ্ঠা, একাগ্রতা, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এবং মানুষের গোপনীয়তা সংরক্ষণও আমানতের অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! তোমরা জেনে শুনে আল্লাহ ও রাসূলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং নিজেদের আমানত সমূহেও খেয়ানত করোনা। (সূরা: আনফাল, ৮:২৭)
অতএব, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্নসাৎ, কাজে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরী এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা আমানতদারিতার পরিপন্থী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি। কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে এবং তার কাছে আমানত রাখা হলে তা খেয়ানত করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৯)- বর্ণিত হাদিসে আমানতের খেয়ানত কে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, হাদিসটি আমাদেরকে এসব বৈশিষ্ট্য থেকে সতর্ক করেছে।
আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীর অধিকার: ইসলাম আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ, সম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। পিতা–মাতার সঙ্গে সদাচরণ করো এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতিও সদাচরণ করো। (সূরা: আন–নিসা, ৪:৩৬)- আল্লাহ তা’আলা আরও ইরাশদ করেন, “আত্মীয়স্বজনকে তাদের প্রাপ্য অধিকার দাও আর মিসকিন ও মুসাফিরকেও। (সূরা: আল–ইসরা, ১৭:২৬)
প্রতিবেশীর সাথে সম্প্রীতি বজায় রাখা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাশদ করেছেন, “জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে এতবেশী উপদেশ দিতে থাকলেন যে, আমার মনে হলো তিনি হয়তো প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী করে দেবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৪)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায় ইসলামে প্রতিবেশীর মর্যাদা কত মহান। প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণের কয়েকটি দিক হলো, * তার প্রতি কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক কষ্ট না দেওয়া। * তার অসুস্থতা ও বিপদের সময় সাহায্য করা। * চলাচলের পথ, পানি নিস্কাশন ও অন্যান্য যৌথ সুবিধায় অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি না করা। * তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ, গুজব ও বিদ্বেষ ছড়ানো থেকে বিরত থাকা।
জুলুম, অত্যাচার, প্রতিরোধে মুসলমানের দায়িত্ব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম এরশাদ করেন, “তোমাদের কেউ কোনো অন্যায় কাজ দেখলে সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে, যদি তা করতে সক্ষম না হয় তবে জিহবার মাধ্যমে প্রতিবাদ করে, আর যদি তাও সম্ভব না হয় তবে অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করবে। আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৯)- এ হাদিসের আলোকে মুসলমানের দায়িত্ব হলো অন্যায় দেখেও নির্লিপ্ত না থাকা। তবে অন্যায় প্রতিরোধ করতে হবে শরীয়তের বিধান, সামর্থ্য, দায়িত্বের সীমা এবং প্রযোজ্য আইন মেনে। কোনো ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে বিচারক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা গ্রহণ করা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা প্রতিবাদের নামে আরও বড় ধরনের অন্যায় সৃষ্টি করা বৈধ নয়।
লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা–এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী);
খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।












