জীবনের স্বরলিপি

নীলরতন দাশগুপ্ত | রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ at ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সঙ্গীত জীবনের স্বরলিপি হলো সুর বেঁেধ রাখার একটি রূপ বা নিয়ম। তেমনি মানুষের জীবনও এক অন্তহীন সঙ্গীতের মতো। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই দীর্ঘ পথ চলায় সুখ দুঃখ আলো ছায়া উত্থান পতনের যে চমৎকার বিন্যাস ঘটে তাকেই বলা হয় জীবনের স্বরলিপি। জীবনের এই অলিখিত খাতায় প্রতিদিন নতুন নতুন সুর যুক্ত হয়। কখনো তা আনন্দের ভৈরবী কখনো বা বেদনার করুণ টোড়ী।

একটি সার্থক গানে যেমন শুধু চড়া সুর বা মন্ত্র সুর দিয়ে গান তৈরী হয় না। তেমনি জীবনেও সুখ বা দুঃখ দিয়ে পুর্ণতা আসে না। জীবনের স্বরলিপিতে সুখ যদি হয় উদাও সুর তবে দুঃখ হলো তার কোমল নিখাদ। জীবনের এই দুই সুরের মেলবন্ধনেই মানুষ সহনশীলতা ও গভীরতা দেখে। দুঃখের কালো মেঘ না থাকলে সুখের সোনালী রোদের মর্ম অনুধাবন করা অসম্ভব। তাই মানুষের জীবনের প্রতিটি বাঁক, প্রতি ব্যবচ্ছেদ, এবং প্রতিটি শিক্ষা একেকটি স্বরলিপির চিহ্ন। শৈশবের সরলতা, কৈশোরের চঞ্চলতা, যৌবনের উম্মাদনা আর বাধ্যক্যের স্থবিরতা সব মিলিয়ে জীবনের মুল আখ্যান। কবিগুরু তাঁর জীবন স্মৃতিতে লিখেছিলেন জীবন কোন অদৃশ্য চিত্তকরের নিজের রসের গোলানে রঙের কাজ। একইভাবে অতীত জীবনের ভুলভ্রান্তি এবং সাফল্যগুলো বর্তমান জীবনের সুরকে নিঁখুত করতে সাহায্য করে। সঙ্গীতে তাল কেটে গেলে যেমন তার সৌন্দর্য্য হারায় তেমনি জীবনের ক্ষেত্র বিষয়টি একই।

সময় এবং নিয়মানুবর্তিতা হলো জীবনের তাল। জীবনের স্বরলিপিকে সুন্দর করতে হলে কর্ম ও বিশ্রামের মধ্যে, আশা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি সুন্দর লয় বা ছন্দ বজায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত ব্যস্ততা যেমন শান্তি কেড়ে নেয়, তেমনি লক্ষ্যহীন আলসেমি জীবনকে স্থবির করে তোলে।

জীবনের স্বরলিপি আগে থেকে সম্পূর্ণ লিখে রাখা কোন ফর্মা নয়, এটি প্রতিনিয়ত আমাদের কর্ম চিন্তা ও ভালোবাসা দিয়ে রচিত হয়। কখনো আসবে ঝড়, কখনো আসবে মহা প্রশান্তি তার মাঝেও নিজের ভিতরের সুরটিকে তাল লয় ঠিক রেখে জীবনের গান গেয়ে যাওয়া জীবন শিল্পীর অনন্য কাজ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসম্মান ও সম্মানী সর্বাধিক হলেই শিক্ষক সন্তুষ্ট