চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে সুমাইয়া জান্নাত (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চুনতি পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া জান্নাত বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আরব শাহ ঘোনার মাওলানা আরিফুল রহমানের মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজারমুখী ইম্পেরিয়াল পরিবহনের একটি স্লিপার বাসের সঙ্গে চট্টগ্রামমুখী পূরবী পরিবহনের বাসের পাশাপাশি সংঘর্ষ হয়। এ সময় পূরবী পরিবহনের বাসে থাকা সুমাইয়ার মাথা জানালার বাইরে ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা বাসটির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পূরবী বাসের সুপারভাইজার তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যান।
নিহতের নানা মনসুর আলম জানান, সুমাইয়ার বাবার চাকরির সুবাদে তাদের পরিবার কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকায় বসবাস করত। ঘটনার দিন সকালে সুমাইয়া মালুমঘাট থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে কলেজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সাইমুন সিরাজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় এক তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি হাইওয়ে থানার হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নিহত ছাত্রীর মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় যুবক আকিব। তিনি উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পেশায় শ্রমিক। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর লুটপাটের বদলে আকিবের এই দায়িত্বশীল আচরণ এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সততা ও মানবিকতার প্রশংসা করছেন অনেকে।











