দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এখন সময় দেশ গড়ার, এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের দেশকে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় হাটহাজারীর পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যাদুর্গতদের জন্য মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তারা কী করবে? প্রত্যেক মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাজপথে এসে তা বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব? এটা আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি, দেশের উন্নয়ন ও দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদেরকে আমাদের রুখে দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদের স্লোগান, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে, আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব। কারণ ৩১ দফা হচ্ছে জনগণের দফা। কাজেই জনগণের দফা পূরণ ও বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে।
হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং হাটহাজারীর সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত ৩০ পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা করে এবং ১৫ জন প্রতিবন্ধীর মাঝে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী পৌরসভায় অবস্থিত আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম প্রকাশ হাটহাজারী মাদ্রাসায় আগমন করেন এবং হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি (রহ.) ও হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অন্য আলেমদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা মুফতি খলিল আহমেদ কাসেমীর কার্যালয়ে যান এবং তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।










