জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার জঙ্গল সলিমপুরে সরিয়ে নিতে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে । কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় হবে দুই সেনাক্যাম্প

| শুক্রবার , ৯ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের রঙ্গীখালী ও নোয়াখালী পাহাড় এলাকায় দুটি সেনাক্যাম্পের পাশাপাশি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার জঙ্গল সলিমপুরে সরিয়ে নিতে সেখানে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সরকারের এসব সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। খবর বিডিনিউজের।

এদিন বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হয়। এরপর চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আরেকটি বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের আলোচনার প্রেক্ষিতে আজকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি রঙ্গীখালী এবং নোয়াখালী পাহাড় আছে, যেখানে অপহরণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে। সেই দুই জায়গায় রামুর ১০ ইনফিনিটি ডিভিশন, এই ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হবে। সেখানে ক্যাম্প স্থাপন হলে অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নির্মূল হবে বলে সবার ধারণা, সেটা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে মাদক সংক্রান্ত, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আগমন ঘটে যা আমাদের দেখতে হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো আইন–শৃক্সখলা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মাদক সংক্রান্ত, অস্ত্র সংক্রান্ত, মানব পাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আমাদেরকে অভিযান চালাতে হয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে যে কাঁটাতারের বেড়া আছে, সেটা প্রায় সময় নষ্ট হয়ে যায় বা নষ্ট করা হয়। সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়। সড়ক বাতি নষ্ট হয়, যা প্রায় সময় মেরামত করতে হয়। এ ধরনের নানা সমস্যা আছে। এগুলো মেরামত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পের বাইরে কিছু দূর পর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে যেকোনো আইন–শৃক্সখলা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারের নানা ঘটনায় অভিযান চালাতে হয় তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয় আমরা যৌথভাবে এসব অভিযান করি।

কোনো কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বা জরুরি অবস্থা দেখা দিলে সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে তখন দেখা হয় তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সে সিদ্ধান্তগুলো আছে। জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেখানে কাজ চলছে। সেখানে সারদার মতো পুলিশ একাডেমী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্য ৭২ একর জমি অ্যাকোয়ার করা হয়েছে, সেখানে স্থানান্তরিত হবে কারাগার। সেখানকার অধিবাসীদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সেখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করেছেন। তাদের পুনর্বাসনের জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো আমরা পরিচালনা করব। সবকিছু সুশাসনের মধ্যে এনে সে জায়গাটি যে একটি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল, সেখান থেকে মুক্ত করা হবে। পুলিশ, এসআরবি, বিজিবির উপস্থিতি যেন থাকে, সে জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব। সময় অনেক অতিবাহিত হয়েছে, সমস্যা অনেক ভারী হয়েছে। আশা করি, এই সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পাব অচিরেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশে সব নাগরিককে সমানভাবে দেখতে হবে : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধএনসিটি পরিচালনায় ১৫ বছরের দায়িত্বে ডিপি ওয়ার্ল্ড, চুক্তি সই