চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ৬৩টি রাজ কাঁকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ নামে পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী রাজ কাঁকড়ার রক্ত নিয়ে ‘ব্যথা উপশমের’ ওষুধ তৈরি ও বিক্রি করছিল দুজন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া রাজ কাঁকড়ার মধ্যে মাত্র ৫টি জীবিত আছে। বাকিগুলোর রক্ত বের করে নেওয়ায় সেগুলো মারা গেছে।
গতকাল বুধবার বিকালে নগরীর শোলশহর রেল স্টেশনের ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্যা নেচারের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুস্তাকিম মাহমুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ উল ইসলাম এসব কাঁকড়া তেল বিক্রির বিষয়টি সরকারি কর্মকর্তাদের নজরে আনেন। পরে তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য ঘটনাস্থলে আসেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রাজ কাঁকড়াগুলো উদ্ধার করা হয়। খবর বিডিনিউজের।
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য বলেন, যারা এগুলো থেকে রক্ত নিয়ে ‘ওষুধ বানিয়ে’ বিক্রি করছিল, সেই দুজন জানিয়েছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে তারা এগুলো সংগ্রহ করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের তফসিল–২ ভুক্ত হওয়ায় রাজ কাঁকড়া আহরণ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ। কিন্তু আমরা এখন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট পাইনি। আর আমল অযোগ্য অপরাধ হওয়ায় এবং আইন সম্পর্কে তারা জানত না বলে স্বীকার করায় এ কাজে জড়িত দুজনকে পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জীবিত রাজ কাঁকড়া ৫টি পরে সাগরে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সেভ দ্যা নেচারের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রাজ কাঁকড়ার নীল রক্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণার কাজে ব্যবহার হয়। প্রাণিটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঝে মাঝেই রাস্তায় ওষুধ বিক্রির নামে এসব প্রাণি প্রদর্শন ও হত্যা করা হয়। আজ এরকম একটি ঘটনা দেখতে পেয়ে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা উদ্যোগ নিয়ে তা প্রতিহত করে। বিশ্ব বাজারে রাজ কাঁকড়ার রক্ত অতি উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়।











