ইরান ও মার্কিন–ইসরায়েলি সংঘাতের সময় কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং সামরিক ঘাঁটিতে চালানো দুঃসাহসিক অভিযানের লোমহর্ষক বিবরণ এক টিভি সাক্ষাৎকারে জনসমক্ষে তুল ধরেছেন ইরানের বিমানবাহিনীর পাইলটেরা। খবর বিডিনিউজের।
পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত অন্যতম বৃহত্তম এই মার্কিন ঘাঁটিতে গত মার্চে অতি–নিম্ন উচ্চতা দিয়ে উড়ে গিয়ে চালানো এই রুদ্ধশ্বাস ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন একদল ইরানি এফ–৫ ফাইটার জেটের পাইলট। অভিযানের কমান্ডার জানান, ইরানে বিদেশি হামলা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা কুয়েতের এই মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। পাইলটরা রাডার ফাঁকি দিতে একদম মাটির কাছাকাছি উচ্চতা দিয়ে ওড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং যেকোনো মূল্যে মিশন সফল করার শপথ নেন। অভিযানের প্রধান কমান্ডার তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন: আমরা অত্যন্ত নিচু দিয়ে বিমান উড়িয়েছিলাম। কিছু কিছু জায়গায় আমরা উচ্চ–ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়ে এবং মাত্র ৫০ ফুট উচ্চতায় উড়ে গিয়েছিলাম। তিনি আরও জানান, ঘাঁটিটি বহুস্তরের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সুরক্ষিত তা জানার পরও তারা সম্পূর্ণ বেতার নীরবতা বজায় রেখেছিলেন। এমনকি ছদ্মবেশে প্রতিবেশী কিছু দেশের জলসীমায় এত নিচু দিয়ে উড়ে গিয়েছিলেন যে, একপর্যায়ে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মাঝখান দিয়ে তাদের বিমান নিয়ে যেতে হয়েছিল। বিবরণ অনুযায়ী, ইরানি যুদ্ধবিমানগুলো তীব্র গতিতে কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ঘাঁটির ওপর চড়াও হয়। সেখানে পাইলটরা লক্ষ্যবস্তুর একেবারে কাছাকাছি গিয়ে সাধারণ মুক্ত–পতন বোমা ব্যবহার করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেন। হামলার সময় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ও অন্যান্য যুদ্ধসরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার দৃশ্য পাইলটরা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। ঘাঁটিতে তাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল। এই আকস্মিক হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র বাহিনীর মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করে।












