কিন্নর

সাদিয়া সুলতানা | শুক্রবার , ১২ নভেম্বর, ২০২১ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

আম্মা এমনভাবে বাচ্চাটার জন্ম-মৃত্যুর গল্প শোনায় যে বুকের নিবিড়ে একটাই শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, ‘পালা… পালা…।’ আমি পালাতে চাইলেও আম্মা থামে না।
‘তারপর বাচ্চাটার লাশ কবর থেইকা তোলা হইল। হুজুর মাসলা দিছে, লাশের জানাজার নামাজ পড়া দরকার। সেইদিন ছিল একটা পবিত্র দিন। জুম্মার দিন। জুম্মার নামাজ পইড়া বাড়ি ফিরা ভাত খাইয়াই তোর আব্বা বাইরে গেল। ঐ যে মেন্দি গাছের পাশে যে গন্ধরাজ লেবুর গাছ দেখোছ ঐখানেই ওরে মাটি চাপা দিছিল। একদিনের মইদ্দে তো আর গাছ লাগাইতে পারে নাই। নারকেল গাছের ডাল-পাতা দিয়া ঢাইকা রাখছিল।’
আম্মা একটু থামে। অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঠোঁট চাটতে চাটতে দম নেয়। ‘আর না, যাই’ বলার আগেই আম্মা আবার বলতে শুরু করে।
‘হাত দিয়া মাটি খুঁইড়া সে নিজেই তুলছে লাশ। আমি তহন বিছনায় পইড়া রইছি, রক্ত যাওয়া কমে নাই। তোর আব্বার আওয়াজ পাইয়া ল্যাছরাইয়া উইঠা জানলা দিয়া উঁকি মাইরা দেখি, বারান্দায় সে নিজেই লাশের গোসল দিতাছে। কাপড় দিয়া ঢাকে-ঢুকে নাই। আহারে হাতের তালুতে নিয়া কী ধোয়ান না ধোয়াইল তোর আব্বা! নিজের কব্বরের জাতার ডর বড় ডর। তোর আব্বার অবস্থা দেইখা হাইসা দিছি। বাঘের মতোন মানুষটা এক্কেরে মিচিবিলাই হইয়া গেছে। আমি হাসতাছি, আর জরায়ুর রাস্তা দিয়া রক্ত গড়ায় পড়তেছে, হঠাৎ চোখ গেল বাচ্চাটার দিকে…।’
‘তুমি চুপ করবা আম্মা…’
আমার কণ্ঠ আম্মার কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।
‘সেই কুচ্ছিত দেহ, মুখ তার লম্বা, ঘোড়ার মতো, নিচের দিকটা বাঁকা। বুঝলাম না মাটির চাপে গইলা গেছে নাকি এমনই জন্ম নিছে। চেহারা যেমনই হউক মায়ায় বুক টনটন কইরা উঠলো। আহারে, পাঁচ মাসের দেহ আর কট্টুক। এই ধর আধ হাতের একটু কম, না না এট্টুক।’
কথা থামিয়ে আম্মা হাতের উল্টোদিকের কব্জির দাগ পর্যন্ত ইঙ্গিত করে। আম্মার হাতের তালুতে শুয়ে থাকা মাংসপিণ্ডটা যে একটা শিশু শরীর তা বুঝতে আমার সময় লাগে। প্রাথমিক ধাক্কা কেটে গেলে আমি ওর মুখ একেবারে স্পষ্ট দেখতে পাই। বাচ্চাটার মুখাবয়ব আব্বার মতো, ত্বকের রঙে কেবল পার্থক্য। ওর শরীর কালো নয় লাল। ভয়ের দমক লাগে শরীরে। চোখ বন্ধ করার আগে দেখতে পাই মাংসপিণ্ডটার ডান চোখের বন্ধ পাতা কামড়ে ধরে থাকা একটা পোকা নড়েচড়ে উঠে আম্মার হাত বেয়ে এগোতে চেষ্টা করছে। চিৎকার করতে গেলে শ্বাসরোধ হয়ে আসে আমার। আম্মা তখনই হাতের কব্জিটা ঘুরিয়ে নিজের বুকের দিকে তাক করে আবার কথা বলতে শুরু করে।
‘তারপর কাজ সাইরা উনি ঘরে আসলেন, তখন রাইত হইয়া আসছে। দেখি প্রথমদিন জানাজা না পড়াইয়া যেই ভুল করছিলেন দ্বিতীয়দিন তা শুধরাইয়া আইসাও মানুষটা থরথরাইয়া কাঁপতাছে।’
আম্মার মুখ চেপে ধরতে ইচ্ছে করছে, পারি না ধরতে। নিজের মুখ চেপে ধরে আমি খাওয়ার ঘরের বেসিনের কাছে দৌড়ে যাই। নোংরা বেসিনের মধ্যে মাথা নুইয়ে দিতেই আমার বমি শুরু হয়। দুপুরে চ্যাপা শুটকির ভর্তা দিয়ে এক থালা ভাত খেয়েছিলাম। ভাত-ভর্তায় বেসিন ভরে এসেছে। আধপচা খাবারের উৎকট গন্ধে বমির বেগ বাড়তে থাকে। মনে হচ্ছে পেটের ভেতরে থাকা সবকিছু বেরিয়ে আসবে। সবকিছু।
আমার পরনের কামিজ পানিতে ভিজে গেছে। আম্মা আমার মাথায় পানি ঢালছে আর সুরা পড়ছে, আল্লাহু লা…ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম…
আম্মার হাত ধরে আমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আম্মা আমার চোখেমুখে ফুঁ দিচ্ছে। দীর্ঘ ফুঁয়ের ওমে আমার ঘুম ঘুম লাগছে। ঘোলা চোখে তাকিয়ে দেখি আম্মার গালের পুরনো কাটা দাগটা ভেসে উঠেছে। আব্বার ছুঁড়ে মারা সবজি কাটার ছুরিটা একদিন এক ডিগবাজিতেই আম্মার গাল চিরে দিয়েছিল। দাগী আসামী আম্মা সেদিন ঘরের বাড়ন্ত চাল থেকে দুই পট চাল একজন ভিখারিকে দিয়েছিল।
আম্মার চাল মাপার পটটা ছিল ড্যানিশ কনডেন্স মিল্কের। দুধের কৌটার গোল মুখে বঁটি ধরে শিল দিয়ে বাড়ি মেরে পাতলা পাত কেটে চাল মাপার পট তৈরি করতো আম্মা। আব্বা চা খেতে কনডেন্স মিল্কের কৌটা আনতো। আম্মার ভাত ঘুমের দুপুরে বেনু আর আমি চুরি করে কৌটার সরু ছিদ্র দিয়ে আঙুল ঢুকাতাম। কনডেন্স মিল্কের কৌটা এক সপ্তাহ না যেতেই ফুরিয়ে গেলে সবজি কাটার ছুরিটা আবার সক্রিয় হয়ে উঠতো। ছুরির ভয়ে বেনু আর আমি কখনো নিজেদের অপকর্মের কথা স্বীকার করতাম না। আম্মার গালে, হাতে দাগের সংখ্যা বেড়ে চললেও, মা-ও স্বীকার করতো না।
আম্মার হাত ছেড়ে আমি সোজা হয়ে দাঁড়াতেই আম্মা আবার তার অপুষ্ট ভ্রুণের গল্প বলতে শুরু করে।
‘বুঝছোস। দুইটা বাচ্চা নষ্ট হইল এমনে। লাথি না খাইলে দুইটা বাচ্চাই টিক্যা যাইতো। তোর আরো বোন থাকতো।’
আম্মা এবার আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে আসে। আম্মার ঠোঁটের কম্পনে আমার শরীর শিরশির করে ওঠে।
‘না হইয়া ভালো হইছে। পিশাচটা কয়দিন পর ওইগুলারও পেট বানাইতো।’
আমার কানের কাছে নিরবিচ্ছিন্ন সুরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, ‘পালা… হেনা, পালা…।’
আমার হাত চেপে ধরে উগ্র কণ্ঠে আম্মা জানতে চায়, ‘কই যাস?’
আম্মার দুই চোখের মণি ঘোলাটে দুই চাঁদের মতো। অলংকারহীন হাত দুটা সরু। হাতে থাকা চুড়ি দুটা আব্বা কবেই খুলে নিয়েছে। এমনিতে আম্মার কাছ থেকে কিছু নিতে জোর করতে হতো না আব্বার। কিন্তু নানাজানের দেয়া এই চুড়ি দুটা খোলার দিন দুজনের মধ্যে বেশ ধস্তাধস্তি হয়েছিল। খুঁজলে আম্মার হাতে এখনো আঁচড়ের দাগ পাওয়া যাবে।
‘তোর আব্বার ঐ ঘরে এক ছেলে হইছে। দেখতে খুব সুন্দর।’
আম্মার মুখে বেমানান হাসি। তার রগভাসা হাত দুটো কেঁপে কেঁপে উঠছে। আব্বা আমাদের ছেড়ে নতুন সংসারে চলে যাবার পর আম্মা ওষুধ খাওয়া ছেড়েছে। শরীরও ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে তার। দিন যাচ্ছে আর আম্মার গাল, থুতনি, কপালের কাটা চিহ্নগুলো তাজা ক্ষতের মতো জেগে উঠছে।
‘শোন হেনা, আরেকবার হইছে কী…’
আম্মা আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আম্মার এক হাতে গল্পের ঝোলা আরেক হাতে লাল রঙের মাংসপিণ্ড। আমি পিছিয়ে যাই। পিছনে যেতে যেতে আমার ঘরে ঢুকে দরজা আটকে বসে থাকি। বেনু রাজীবের সঙ্গে পালিয়ে যাবার পর এতদিনে আমার একার একটা ঘর হয়েছে। এই ঘরের অংশীদারিত্ব নিয়ে দুজনে কত ঝগড়া করেছি, আর এখন কত বছর হয়ে গেল বেনুর সাথে দেখা হয় না! আম্মা বলে, গাঙে-গাঙে দেখা হয়, বোনে-বোনে দেখা হয় না।
আমার পেটের ভেতরে আস্ত এক গাঙ। গাঙের ভেতরে জিওল মাছ ঘাঁই মারে আর আমার ক্ষুধা পায়। বেনু খাটের নিচে প্লাস্টিকের বড়ো কৌটার ভেতরে মুড়ি, চানাচুর, বিস্কুট লুকিয়ে রাখতো। এখন আমিও রাখি।
বেনুর মতো কোলের ওপরে ঢাউস কৌটাটা নিয়ে বসে আছি। কিছুই মুখে তুলতে পারছি না। মেঝেতে কৌটাটা রাখতে গিয়ে পারি না। শরীর নেতিয়ে পড়ছে। ঘুম ঘুম পাচ্ছে।
বহুক্ষণ কেটে গেছে। ঘুমিয়েছি না জেগে আছি জানি না। কিছু আছড়ে পড়ার শব্দে চোখ মেলতেই দেখি বাইরে ঝড় উঠেছে। ঘরের একমাত্র জানালার কপাট খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে। জানালা আটকে না দিলে বৃষ্টিতে ভিজবে সব। উঠে বসতে গিয়ে টের পাই কেউ একজন নির্মমভাবে আমার শ্বাসনালী চেপে ধরেছে। প্রবল হাওয়া বইছে চারপাশে। জানালার কপাট বাড়ি খাচ্ছে। আমার শ্বাসরোধ হয়ে আসছে। সোফাতে শরীর ছেড়ে আমি চিৎকার করে উঠি, ‘আম্মা…।’ আম্মার বদলে ব্যথারা শত্রুর মতো আমাকে ঘিরে ধরে। অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে করতে আমি গর্ভের স্ফূরণ দেখি। আমার প্রেমিক মুবিন বলেছে গর্ভের এই বীজের দায় ওর না। ওকে বীর্যস্খলনে প্রলুব্ধ করেছি আমি, আমি পুরুষখেকো নারী, সব দায় আমার।
এ গর্ভও আমার। এ আমার পূর্ণ গর্ভ! আমার যোনির মতো বেইমান এই গর্ভ! যেখানে এখন জমকালো ঢেউ উঠছে আর নামছে। হঠাৎ চমকে দেখি ফড়ফড় করে ছিঁড়ে যাচ্ছে গর্ভের পর্দা, পানিতে ভিজে যাচ্ছে আমার নিম্নাঙ্গ। আমি দুহাতে ভর দিয়ে ওঠার চেষ্টা করি। পারি না। শরীরজুড়ে ব্যথার ঢল নামছে। গর্ভজুড়ে নদীর পাক মোচড় খাচ্ছে। ঊর্মিমুখর শরীর মাটিতে দেবে যাচ্ছে। আমি ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছি। এই তো এই গর্ভ ভেদ করে কেউ আসছে!
এসেছে! সে এসেছে! আমার শরীরবিচ্ছিন্ন শিশু এসেছে।
অপলক তাকিয়ে দেখি শিশুটা রক্ত পানির আঠালো দ্রবণে মাখামাখি আছে। শিশুদেহটা কিন্নর কণ্ঠে একবার চিৎকার করে উঠে আমার পা, হাঁটু, উরু হাতড়ে আমার কোচড়ে উঠতে থাকে। ভয় পেতে পেতে নিজেকে বোঝাতে থাকি নির্ঘাৎ স্বপ্ন দেখছি। এ সত্যি না। সর্বশক্তি দিয়ে ওকে সরানোর চেষ্টা করতে করতে উঠে বসতেই ঝাঁঝালো একটা গন্ধ নাকে লাগে। সর্বগ্রাসী আতংকে নীল হয়ে দেখি কোলের ওপরে একটা কিন্নর ঘাপটি মেরে বসে আছে। মুখ তার লম্বা, অশ্বের মতো, নিচের দিকটা বাঁকা। দেবযোনি বিশেষ অশ্বমুখের শরীরটা নড়ে চড়ে উঠে দুই পা দিয়ে সজোরে আমার পেটে লাথি দিতে দিতে কিন্নর কণ্ঠে বলতে থাকে, ‘পালা…পালা…।’
কিন্নরের কণ্ঠস্বর মুবিনের মতো। আমার প্রেমিক মুবিন। আমার গর্ভসঞ্চারের কথা জেনে যে আমাকে এক ঝটকায় ফেলে চলে গেছে। আমিও এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে কোচড় থেকে কিন্নরকে ছাড়াই। মোজাইক করা মেঝেতে মাটি রঙের কুৎসিত নরটা খাবি খেতে থাকে। বমির বেগ খাদ্যনালী কাঁপিয়ে গলা অবধি পৌঁছাতেই আমি মুখ চেপে ধরে বেসিনের কাছে দৌড়ে যাই। বেসিনের ছিদ্রপথে আগেরবারের বমির উচ্ছিষ্ট জমে আছে। নোংরা বেসিনে মাথা ঢুকিয়ে দিতেই আমার মুখ দিয়ে পিত্তগলা তিতা পানি বেরিয়ে আসে। বমির বেগ না কমে বেড়ে যায় এবার। নাড়িভুঁড়ি গলা দিয়ে বের হবার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও খাদ্যনালী চুয়ানো টক লালা ছাড়া আর কিছুই বের হয় না।
আম্মা আমাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় পানি দিতে থাকে। খানিকক্ষণ আগের ভেজা চুল এখনো শুকায়নি। ভেজা চুল গড়ানো পানি আমার স্তনযুগল, পেট, পিঠ ভিজিয়ে দেয়। শরীরময় শীত শীত লাগে।
আম্মার বাহু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে খাবার ঘরের রংচটা রট আয়রনের চেয়ারে বসি। এই চেয়ারের মাথার দিকটা বাঁকা। মনে পড়ে, আম্মা সেদিন ফরিদদের বাসায় গিয়েছিল। কাউকে না বলেই গিয়েছিল। ওর আম্মার প্রসববেদনা উঠেছিল, কাকে ডাকবে বুঝতে না পেরে আম্মাকে ডেকেছিল। ঐদিন আম্মা রাত কওে বাড়ি ফেরায় আব্বা আম্মার দিকে চেয়ারটা ছুঁড়ে মেরেছিল। আম্মা সরে যাওয়াতে চেয়ারটা তার শরীরে না লেগে প্রচণ্ড শব্দে মেঝেতে আছড়ে পড়েছিল।
আম্মাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আম্মা মনে আছে তোমার, চেয়ারটা কীভাবে বাঁকা হয়েছিল?’
আম্মা উত্তর দেয় না, কনডেন্স মিল্কের কৌটার সরু মুখে তর্জনি ঢুকিয়ে বের করে নিয়ে তর্জনির ডগা চুষতে চুষতে পাল্টা প্রশ্ন করে, ‘খাবি?’
‘না।’
‘খুব মজা, খা…আঙুলে ভরায় ভরায় খা…। শেষ বাচ্চাটা পেটে থাকতে খুব খাইতাম।’
অকস্মাৎ ‘পালা’ শব্দের দ্যোতনায় আম্মার স্বর চাপা পড়ে যায়। টের পাই ঝাঁঝালো গন্ধটা এখন এ-ঘরের হাওয়ায় ভাসছে। নাক-মুখ দিয়ে গন্ধটা একেবারে পেটের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। ঝাঁঝের দমকে শরীর কেঁপে কেঁপে ওঠে আমার। আম্মা, আম্মা ডাকি। গোঙানি ছাড়া কণ্ঠনালী চিরে কোনো স্বর বের হয় না। গোঙাতে গোঙাতে আমি বিস্ফারিত চোখে দেখি কিন্নরটা হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করতে করতে ক্রমশ আমার দিকে এগিয়ে আসছে। হায়, ওর চেহারা অবিকল আব্বার মতো দেখাচ্ছে!

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিআরবি রক্ষার দাবিতে অনন্য সংকলন
পরবর্তী নিবন্ধকর আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নবীন বরণ ও প্রার্থী পরিচিতি