কাতারকে উড়িয়ে কানাডার প্রথম জয়

স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার , ২০ জুন, ২০২৬ at ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

কাতারকে নিয়ে যেন ছেলেখেলা খেলল স্বাগতিক কানাডা। নয় জনের কাতারকে ৬০ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কানাডা। সহআয়োজক কানাডার হয়ে হ্যাটট্রিক করেন তারকা স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিড। এছাড়া স্কোরশিটে নাম লিখিয়েছেন কাইল লারিন ও ন্যাথান সালিবা। অন্য গোলটি হয়েছে আত্মঘাতি। বিগ্রুপে শীর্ষে থেকে কানাডার নক আউট পর্বে যেতে হলে শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সাথে ড্র করলেই চলবে। ঘটনাবহুল ম্যাচে অনেকটা সময় ৯ জন নিয়ে খেলে কাতার। বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় আসরে খেলতে নেমে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় কানাডা। ১৯৮৬ ও ২০২২ আসরে তিনটি করে ছয়টি ম্যাচ খেলে হেরেছিল সবগুলোয়। গ্রুপের দুই রাউন্ড শেষে একটি করে জয় ও ড্রয়ে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের পয়েন্ট সমান ৪। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে কানাডা। বসনিয়া ও কাতারের পয়েন্ট সমান ১ করে। অবিশ্বাস্যভাবে নিজেদের মেলে ধরা কানাডাকে কখনোই কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি কাতার। ম্যাচের পরিসংখ্যানেও তা স্পষ্ট; ৭৫ শতাংশের বেশি সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ৩৩টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পারে কানাডা। কাতারের দুই শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না। প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে শুরুতে হজম করতে হয়েছিল গোল। এবার উল্টো তার চেয়ে কম সময়ে কাতারের জালে বল পাঠায় কানাডা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নেয় তারা। বল দখলে আধিপত্য করে ষোড়শ মিনিটে গ্যালারি ভরা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসায় স্বাগতিক দল। জোনাথন ডেভিডের জোরাল শট সোজাসুজি থাকার পরও বল হাতে রাখতে পারেননি গোলরক্ষক, সেই সুযোগে সামনেই থাকা ল্যারিন দ্রুত টোকায় বাকি কাজ সারেন। বসনিয়ার বিপক্ষে এই ফরোয়ার্ডের গোলেই একটি পয়েন্ট পেয়েছিল জেসি মার্শের দল। ২৯তম মিনিটে বিউক্যানানের জোরাল শট লক্ষ্যেই ছিল, কিন্তু ডিবক্সের মুখে ডেভিডের শরীরের বাধা পায়। তিনি অবশ্য সুযোগটি নষ্ট হতে দেননি, দুর্দান্ত এক ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ড। কানাডিয়ানদের ওই গোল উৎসবের পর পুনরায় খেলা শুরু হতেই আরেক ধাক্কা খায় কাতার। পাল্টা আক্রমণে সবাইকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যান বিউক্যানান, পেছন থেকে তাকে হোমাম এল আমিন ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি এবং এই ডিফেন্ডার দেখান হলুদ কার্ড। ফাউলের ঘটনাটি ডিবক্সের ঠিক বাইরে হওয়ায় ভিএআরে পাল্টে যায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত; তবে হলুদ কার্ড বাতিল করে এল আমিনকে সরাসরি বহিষ্কার করেন রেফারি। ৩৮তম মিনিটে ব্যবধান হতে পারত আরও বড়, তবে ছয় গজ বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও ভারসাম্য হারিয়ে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি বিউক্যানান, গোললাইন থেকে ফেরান কাতারের ফরোয়ার্ড আকরাম আফিফ। বিরতির আগেই অবশ্য তৃতীয় গোল পেয়ে যায় কানাডা। এই গোলেও জড়িয়ে ল্যারিনের নাম। তার জোরাল হেড কোনোমতে একহাতে আটকান গোলরক্ষক, তবে ফিরতি বল গোলমুখ থেকে জালে জড়ান ডেভিড। ৫৩তম মিনিটে মাঝমাঠে পেছন থেকে আসিম মাদিবোর কড়া ট্যাকলে পা ভেঙে যায় কানাডার ইসমায়েল কোনের। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন এই মিডফিল্ডার। শুরুতে মাদিবো হলুদ কার্ড দেখালেও, পরে তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। কোনের বদলি নামার সাত মিনিটের মাথায় চমৎকার একটি গোল করেন ন্যাথান সালিবা। তার ফ্রি কিকে বল সামান্য বাঁক নিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে এটাই প্রথম সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল। ১০ মিনিট পর ব্যবধান আরও বড় হয়। জেকব শাফলবার্গের শট গোলমুখে আটকানোর চেষ্টা করেন মোহামেদ মানাই, কিন্তু বল তার পায়ে লেগে চলে যায় জালে। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আরেকটি দারুণ গোলে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ডেভিড। স্যালিবার শট তার পায়ে বাধা পায়, নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। ছয় দশকে প্রথম কোনো স্বাগতিক ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন ডেভিড। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৪২ গোলে জয়ের পথে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংলিশ তারকা জিওফ হার্স্ট। কানাডার ইতিহাসে আগে থেকেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ডেভিড; জাতীয় দলের হয়ে তার গোল হলো ৪২টি, ৭৯ ম্যাচে। গ্রুপে শেষ রাউন্ডে আগামী বুধবার সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কানাডা। ম্যাচটি ড্র করলেই গ্রুপ সেরা হবে তারা। একই সময়ে মুখোমুখি মাঠে নামবে বসনিয়া ও কাতার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর হাকিমি
পরবর্তী নিবন্ধ‘ওরা আসবে’ শিল্পকলায় মঞ্চায়ন হলো বক্তব্যধর্মী নাটক